Press "Enter" to skip to content

গারো জনজাতির বিদ্রোহ

গারো জনগোষ্ঠীর জীবন সংগ্রামের সঙ্গে আন্দোলন-সংগ্রাম জড়িয়ে আছে সেই আদিমকাল থেকেই। যুগযুগ ধরে যাযাবরের মত জীবন যাপন করেছে গারো সমাজ। তাই তাদের বিভিন্ন স্থানে বসবাস করতে হয়েছে। তাদের সহ্য করে চলতে হয়েছে সে সকল স্থানের শাসক শ্রেণির নিপীড়ন নির্যাতন। অনেক সময় মাত্রাতিরিক্ত নির্যাতনের ফলে তারা বিদ্রোহ করেছে। এক সময় গারোরা গোয়ালপাড়ায় বসবাস করতো। সে সময় গোয়ালপাড়ায় তাদের জাতির সম্ভ্রম রক্ষার্থে বিদ্রোহ করতে হয়েছিল। সেখান থেকে তারা বিদ্রোহ করেই স্থানান্তরিত হতে হয়েছে। ৬৮৬ বঙ্গাব্দের সোমেশ্বর পাঠক গারো সম্প্রদায়কে রাজ্যচ্যুত করেছে।১

এর আগে বর্তমান সুসঙ্গ২-এর নিবিড় অরণ্যভূমি- নেতাই নদী থেকে মহিষখলা নদী পর্যন্ত – বাইশ্যা গারো নামক এক প্রবল প্রতাপশালী ব্যক্তির অধিকারভুক্ত ছিল সমগ্র গারো সমাজ।৩ সে সময় থেকেই সোমেশ্বর পাঠক তাঁর রাজধানীর চতুর্দ্দিকে তাঁর শাসনদন্ড সুপরিচালিত হতে থাকে। তখন তিনি রাজ্যবিস্তার আরম্ভ করেন। সে সময় সোমেশ্বর পাঠক খাসিয়া রাজ্য আক্রমণ করেছিলেন। খাসিয়া-রাজ তাঁর সীমা রক্ষার জন্য সোমেশ্বরের বিরুদ্ধে দন্ডায়মান হলেন। যুদ্ধে সোমেশ্বর (পাঠক) জয়লাভ করেন। খাসিয়া-রাজ পরাজিত হয়েও পরাজয় স্বীকার করেন নি; যুদ্ধ চলতে লাগলো। অগণন গারো বাহিনী নিয়ে সোমেশ্বর প্রভূত বিক্রমে খাসিয়া-রাজকে আক্রমণ করেন। খাসিয়া-রাজ পলায়ন করে প্রাণ রক্ষা করেন। সোমেশ্বর খাসিয়ার রাজধানী ‘নংন্তিংপুঞ্জি’ আক্রমণের জন্য তাঁর বাহিনী প্রেরণ করেন। সোমেশ্বরের বাহিনীর আক্রমণের আগেই খাসিয়া-রাজ সন্ধির প্রস্তাব দেন। ৬৯৫ বঙ্গাব্দে সুসঙ্গরাজ সোমেশ্বরের সঙ্গে খাসিয়ারাজের সন্ধি সংস্থাপিত হয়েছিল। সন্ধির শর্তানুসারে খাসিয়া-রাজ সুসঙ্গকে নিজ রাজ্যের সীমান্ত স্থান সমূহ হতে নংদিন, নংখালু, নসফা, বংসু প্রভৃতি স্থান ছেড়ে দেয়।৪ এ সময় সুসঙ্গ রাজ্যের সীমা বর্ধিত হয়ে উত্তরে নেংজা পর্বতমালা, পূর্বে মহিষখলা নদী, পশ্বিমে নেতাই নদী ও দক্ষিণে বহুদূর বিস্তৃত সমতল ভূমি পর্যন্ত নির্ধারিত হয়েছিল।৫

এ সকল অঞ্চলই ছিল নৃতাত্তি¡ক জনগোষ্ঠীর শাসনভুক্ত ক্ষদ্র ক্ষুদ্র রাজ্যে বিভক্ত। যেমন মদন গারো, কেউ বলেন মদন কোচ নামানুসারে মদনপুর রাজ্য, বোকাই কোচের নামানুসারে বোকাইনগর রাজ্য ছিল। গারো পাহাড়ের সংলগ্ন স্থান সমূহ গারোদের শাসনভুক্ত ছিল বলে অনেক ঐতিহাসিকই মনে করেন। সোমেশ্বর পাঠকের আক্রমণের ফলেই সে রাজ্য গারোদের শাসনচ্যুত হয়েছিল।
গারো সমাজের লোকজন তাদের জীবিকার তাড়নাতেই সমর কৌশল রপ্ত করতে হয়েছিল। তাঁরা নিজস্ব প্রযুক্তিতে তীর-ধনুক, বল্লম, কুড়াল ইত্যাদি অস্ত্র তৈরিতে বেশ পটুছিলেন। একই কারণে তাঁরা যুদ্ধ কৌশলও রপ্ত করে নিয়েছিলেন। সে কারণে অনেক সমর সেনারা গারোদের সৈন্য হিসাবে ব্যবহার করেছেন। ১৬০৮ থেকে ১৬২৪ খ্রিষ্টাব্দের মধ্যবর্তী ষোল বছরের বাংলা, বিহার, কোচবিহার, আসাম, কামরূপ প্রভৃতি রাজ্যের নির্ভরযোগ্য ইতিহাস ‘বারীস্তান-ই-গায়বী’ গ্রন্থে মির্জা নাথান লিখেছেন- তিনি গারো পাহাড় থেকে পাহাড়ীয়া জাতি গারোদের চার হাজার পাইক সংগ্রহ করেন। এদের চার ভাগে বিভক্ত করে ‘রাঙ্গাজুলি’৬ দূর্গ আক্রমণ করে ছিলেন। সে দিন এমন ভীষণ যুদ্ধ চলে যে, উভয় দিক থেকে মুষলধারে তীর বর্ষণের ফলে কোন পাখী আকাশে উড়তে পারে নি। … তা কিয়ামতের দিন স্মরণ করিয়ে দেয়।৭

গারো জনজাতি বারবার শোষিত হয়েছে; লাঞ্ছনা ভোগ করেছে শাসকদের হাতে। সে কারণে কোম্পানি শাসনের সময় পাগলপন্থীদের কৃষক বিদ্রোহেও তারা সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিল। পাগলপন্থী টিপু শাহকে গারোরা তাদের ‘নকমা’ বলে মনে করতো। তারা আজো বিশ্বাস করে টিপু শাহ তাদের জ্ঞাতি।৮

টিপুর অবর্তমানে হদি নেতা দুবরাজ পাথর ও জানকু পাথর পাগলপন্থীদের আন্দোলনের ধারাবাহিকতা অব্যহত রেখে ছিলেন। তাঁরা ১৮৩৭ সালে ব্যর্থ হলে এ অঞ্চলের সকল জনজাতির আন্দোলন সংগ্রাম স্থিমিত হয়ে পড়ে। গারোরাও নিরুৎসাহীত হয়ে কোন বিদ্রোহ-সংগ্রামে আর সম্পৃক্ত হন নি। এর মাঝেই জমিদার ও মহাজনদের অত্যাচার ক্রমাগত ভাবে বাড়তে আরম্ভ করে। এর সঙ্গে এসে যুক্ত হয় কোম্পানি সরকারের লোকজন। ত্রিপক্ষেয়, কখনো পৃথক, কখনো যৌথ অত্যাচার চলতে থাকে। শাসকগণ ইতোপূর্বেই প্রত্যেক গারো গ্রাম এবং গারোদের প্রত্যেক ঘরের উপর কর ধার্য করে দিয়েছিল। কোন গারোই স্বেচ্ছায় এই কর দেন নি। এতে শাসক বাহিনী গারো গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে সর্বস্ব লুঠ করে নিয়ে যায়। কোন কোন সময় গারোদের বাড়িঘরে আগুন ধরিয়ে ভস্মীভূত করে ফেলে। জমিদার, মহাজন ও কোম্পানির লোক এ তিন পক্ষের উপর গারোরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে। গারোরা আবারো রুখে দাঁড়াবার প্রস্তুতি নিতে থাকে।৯ গারোদের এই সংগ্রামের ধারা পতন অভ্যুদয়ের বন্ধুর পন্থা বেয়ে ১৮৮২ সাল পর্যন্ত বহমান ছিল।১০

১৮৩৬ সাল থেকে ভাওয়ালে মঙ্গলসিংহের বিদ্রোহ। যা অব্যাহত ছিল ১৮৩৮ সাল পর্যন্ত। এর মাঝে ময়মনসিংহে ঠগীদের উপদ্রব শুরু হয়েছিল। ১৯৩৮ সালে উলুকান্দিতে (ভৈরব বাজার) দাঙ্গা দেখা দেয়। নীলকরদের অত্যাচারতো ছিলই। ১৮৩৯ সালে মধুপুরে দস্যু হনুমানসিংহের অবির্ভাব হয়।১১ এ সকল দিক বিশ্লেষণ করলে বুঝা যায় তৎকালে ময়মনসিংহের সকল শ্রেণির মানুষই নির্যাতিত নিপীড়িত ছিল। এখানে শুধু ক্ষুদ্র জাতিসত্ত¡ার মানুষদের পৃথক ভাবে দেখার সুযোগ নেই। সকল মানুষই অশান্তিতে ছিল। তবে যারা মানুষদের সুরক্ষার দায়িত্বে থাকার কথা ছিল, তারাই ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর মানুষদের উপর ক্রমাগত নির্যাতন চালিয়েছে বারবার।

১৮৩৭ সালে গারোদের বিদ্রোহ সম্পর্কে সুপ্রকাশ রায় ‘গারোহিল জেলার গেজেটীয়ার’ থেকে উদ্ধৃতি দিয়ে আমাদের জানিয়েছেন- ‘গারো বাজারগুলো তদারককারী জমিদার কর্মচারিগণ ও ব্যবসায়ী মহাজনদের শোষণ-উৎপীড়নে ক্ষিপ্ত হয়ে গারোরা সীমান্তবর্তী জমিদারদের ঘাটি ও জমিদার কর্মচারিদের উপর আক্রমণ শুরু করেন। সে অবস্থায় জমিদারদের সহায়তায় সরকারি বাহিনী এগিয়ে আসেন। কয়েটি স্থানে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে গারোদের সংর্ঘষ হয়ছিল। এক পর্যায়ে বিদ্রোহী গারোগণ আত্মসর্ম্পন করতে বাধ্য হন।’১২ গারোদের এ বিদ্রোহ সাময়িক অবসান ঘটেছিল মাত্র।

কোম্পানি সরকারের বাহিনীর কাছে আত্মসমর্পণ করে মানসিক স্বস্তি পায়নি গারোরা। তাদের কথা ছিল গ্রামের উপর কর, একই সঙ্গে ঘরের উপরও কর দিতে হবে কেন? দু’ধরনের কর ধার্য ন্যায় সংগত নয়। এ নিয়ে ১৮৪৮ সালে গারো সম্প্রদায় আবারো আন্দোলন মুখী হয়ে উঠে।১৩ গারোরা জমিদারদের কর প্রদান বন্ধ করে দেয়। সে সময় গারোদেরই এক সর্দার জমিদারদের পক্ষাবলম্ভন করেন। তারই ইন্ধনে জমিদারগণ ১৮৩৪ সাল থেকে অনাদায়ী সমস্ত কর পরিশোধের জন্য গারোদের মধ্যে প্রচার চালাতে তাকে। বিদ্রোহী গারোদের আক্রমণে বিশ্বাসঘাতক গারো সর্দার সপরিবারে নিহত হয়।১৪ বিদ্রোহী গারোদের দমনের জন্য সেনাবাহিনী গারো অঞ্চলে প্রবেশ করেছিল ১৮৪৮ সালের শেষভাগে। সেনাবাহিনী দেখে বিদ্রোহীরা ভীত হয়ে গভীর জঙ্গলে প্রবেশ করে।১৫ নানা কারনে গারোরা সম্মুখ সংর্ঘষ বর্জন করে জমিদার, মহাজনদের উপর চোরাগোপ্তা আক্রমণ আরম্ভ করে। গারোদের আক্রমণ ক্রমাগত বাড়তে থাকলে জমিদার, মহাজনরা প্রাণভয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে উঠে। সশস্ত্র সেনা বাহিনী যখন বিদ্রোহী গারোদের দমনে ব্যর্থ, তখন কোম্পানি সরকার জমিদারদের বিকল্প পথ অবলম্ভন করতে পরামর্শ দেয়। সরকারি পরামর্শে জমিদারদের নির্দেশে স্থানীয় বাজারগুলো বন্ধ করে দেয়া হয়।

পাহিড়িয়া বাজারগুলো ছিল গারোসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের বিনিময় কেন্দ্র। পাহাড়ি জাতিরা তুলা, ধান ইত্যাদি শস্যের বিনিময়ে তেল, লবণ ইত্যাদি সামগ্রী গ্রহন করতো। এ সকল বাজারগুলোতে বসে জমিদারদের লোকেরা ও মহাজনরা গারোদের সহ অন্যান জাতিগোষ্ঠীর লোকজনের কাছে চড়া সুদে ঋণ দিতো। সামান্য লবণ কিংবা তেল দিয়ে মাত্রাতিরিক্ত তুলা কিংবা ধান নিয়ে নিতো। এ সকল বাজারে বসেই জমিদার কর্মচারিরা নানা উপয়ে অর্থ আদায় করতো। এর পরেও গারোরা তাদের প্রয়োজনে গারোদের ওই বাজারগুলোতে যাতায়াত ছিল। জমিদারদের ধারনা ছিল- বাজারগুলো বন্ধ করে দিলে গারোরা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের সংকটে পড়ে বাধ্য হয়ে আত্মসমর্পণ করবে।১৭ বাজারগুলো বন্ধের ফলে মহাজন ও জমিদার কর্মচারিদের সুদের কারবার; গারোদের ঠকানো বন্ধ হয়ে পড়ে। পরে তারা নতুন কৌশলে সুদের কারবার ও ঠকিয়ে গারোসহ অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীর কাছ থেকে শস্য সংগ্রহ করতে শুরু করলো। দৈনন্দিন ব্যবহারের সামগ্রী ছড়া দামে বিক্রি করতে আরম্ভ করলো মহাজনরা।১৮ নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের অভাব, চড়া সুদে অর্থ, কিংবা দ্রব্য সংগ্রহ কতে হতো। গারো পরিবারগুলো ক্রমে নিঃস্ব হতে থাকলো। এ সকল কারণে আবারো অতিষ্ঠ হয়ে উঠলো গারোরা। ক্ষিপ্ত হয়ে আবারো জমিদার ও মহাজনদের উপর আবারো আক্রমণ করে।

১৮৫২ সালে গারোরা গোয়ালপাড়ায় এসে আক্রমণ করে। অন্তত সাতবার উৎপাতের ফলে ৪৪টি লোক নিহত হয়। ব্রিটিশ গবর্ণমেন্ট গারোদের রার জন্য সৈন্য প্রেরণ করেণ। গারোরা পালিয়ে যায়। ক্ষুব্ধ সৈন্যরা গারোদের একটি বস্তি পুড়িয়ে ফেলে। পাহাড় ঘেরাও করে গারো আক্রমণকারীদের ধরে বিচারর জন্য গোয়ালপাড়ায় নিয়ে যায়। তাদের দÐাদেশ দিয়ে দেয়া হয়। কয়েক বছর গারোদের আর কোন বিদ্রোহের খবর পাওয়া যায়নি। ১৮৫৭ থেকে ১৮৫৯ সালের মধ্যে গোয়ালপাড়া ক্রমে ৯ বার আক্রমণ করে গারো বিদ্রোহীরা ২০ জন মানুষকে হত্যা করে।১৯

অবশেষে ১৮৬১ সালের প্রথম ভাগে একটি বড় সরকারি সেনাদল গারোদের দমন কল্পে প্রেরীত হয়। সৈন্যদলের এক ভাগ গোয়ালপাড়া২০ অন্যদল ময়মনসিংহের মধ্য দিয়ে গারো অঞ্চলে প্রবেশ করে। সৈন্যরা গারো অঞ্চলে প্রবেশ করে গ্রামে গ্রামে লুঠ ও ঘরগুলোতে আগুন দিয়ে পুড়ে ভস্ম করে অগ্রসর হতে থাকে। অন্যদিকে বিদ্রোহী গারোরা দূরের বনাঞ্চলে আত্মগোপন করে। সেনাবাহিনী গারোদের কয়েক জন বৃদ্ধ সর্দারকে এলাকায় শান্তি রক্ষার্থে দায়িত্ব দিয়ে চলে যায়।২১

ইতোমধ্যে ১৮৫৭ সালে সিপাহি বিপ্লব ঘটে। কোম্পানি সরকার পরিবর্তন হয়ে ব্রিটিশ সরকারের হাতে শাসন ক্ষমতা হস্তান্তিরিত হয়। কিন্তু শাসন-শোষনের কোন পরিবর্তন হয় নি। ঢাকার সিপাহিদের ঘটনা প্রতিদিন… ময়মনসিংহবাসীদের অস্থির করে তুলতো। ঢাকার ছত্রভঙ্গ সিপাহিদের একাংশ ময়মনসিংহের দিকে আসছিল। ময়মনসিংহের কাছে আসলে সিপাহিরা ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে যুদ্ধ করতে অসম্মত হয়। এরা চলে যায় জামালপুরের দিকে । পরে দিক পরিবর্তন করে ময়মনসিংহের উত্তর-পশ্চিম দিকে চলে যায়।২২ এ সকল কারণে ময়মনসিংহের প্রশাসন ও সাধারণ মানুষ অনেকাংশেই ভীত ছিল।
সমগ্র গারো পাহাড় এক সময় ময়মনসিংহ জেলার অর্ন্তভুক্ত ছিল। ১৭৮৭ সালেও গারো পাহাড়কে ময়মনসিংহের অধীন দেখা যায়। গারো পাহাড়ের ভেতরে তুরা পাহাড় ময়মনসিংহের দূরত্ব দেখান হয়েছে ৮৮ মাইল। তখনও কোন পথ, নদী-নালার উপর সেতু নিমার্ণ হয় নি। ১৮৬৯ সালে গারো পাহাড়টি আসামের অর্ন্তভুক্ত করা হয়।২৩

কোম্পানি সরকার যেমন দফায় দফায় খাজনা বাড়িয়ে ছিল। তেমনি ১৮৫৭ সালের পর ব্রিটিশ সরকারও প্রতিবারই খাজনা বৃদ্ধি অব্যাহত রেখেছিল। ফলে জমিদারদেরও নতুন ভাবে খাজনার হার বৃদ্ধি করতে হতো। ১৮৬৬ সালে সুসঙ্গের জমিদার গারো পাহাড় অঞ্চলে খাজনা হার ধার্য হয় বৃদ্ধি করে। সে খাজনা আদায় করতে গেলেই আবারো গারোরা বিদ্রোহী হয়ে উঠে।২৪ এ বার বিদ্রোহী গারোদের আক্রমণ অনেকটাই ছিল তীব্র। গারোরা দলবদ্ধ ভাবে আক্রমণ চালাতে শুরু করে। সমতলে নেমে এসে জমিদার বাড়ি, জমিদারদের কাচারি বাড়ি, মহাজনদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আক্রমণ চালায়। আক্রমণের ফলে অনেক জমিদার কর্মচারি, পাইক, বরকন্দাজ মারা যায়। জমিদার, মহাজনদের জীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠে। উপায়ন্তর না দেখে ব্রিটিশ সরকারের সাহায্য প্রার্থনা করে জমিদার, মহাজনরা। ব্রিটিশ সরকার জমিদারদের সহায়তা দিতে এক বিশাল সেনা বাহিনী প্রেরণ করে।২৫ এ বারও গারো বিদ্রোহীরা আগের কৌশল অবলম্ভন করে গভীর অরণ্যে পলায়ন পূর্বক আত্মরক্ষা করে।

ব্রিটিশ সরকারের ধারণা জন্মায় এ ভাবে গারোদের দমন করা সম্ভব নয়। এদের দমন করতে নতুন কৌশল অবলম্ভন করতে হবে। ব্রিটিশরা গারো অঞ্চলে সশস্ত্র সৈন্য বাহিনী সহ একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা স্থায়ীভাবে অবস্থানের কথা ভাবেন। কিন্তু অঞ্চলটি ইউরোপীয়দের বাস উপযোগী হিসাবে বিবেচিত ছিলনা। এর পরেও উচ্চপর্যায়ের নির্দেশে ১৮৬৭ সালে ‘লেফ্টেনেন্ট উইলিয়ামসন’ ‘তুরা’তে ডেপুটি কমিশনার নিযুক্ত হয়ে আসেন এবং (সর্বদা ত’ব্র শাসনের দরুণ) ১৯৭১ সাল পর্যন্ত, প্রায় ১‘শ খানা স্বাধীন গারো বস্তি ব্রিটিশ গবর্ণমেন্টের অধীনতা স্বীকার করে।২৬এটা সম্ভব হয়েছিল উইলিয়ামসন-এর গারোদের দমনের মধ্যে না গিয়ে, বন্ধুত্বের সম্পর্ক গড়ে তুলতে চেষ্টা করা। গারো গ্রামগুলো দু’ভাগে বিভক্ত হয়ে পড়ে।২৭ একাংশের গ্রামের গারোরা সেনা বাহিনীর পক্ষে, বাকীরা জমিদার, মহাজন ও ব্রিটিশ বাহিনীর বিদ্রোহ করেই চলছিল। সর্বোপরি গারো গ্রামগুলো একাংশ স্বাধীন, বাকীরা ব্রিটিশদের করতলে থেকে যায়। এ পর্যায়ে খÐিত গারো গ্রামগুলোতে অনেকাংশে বিদ্রোহ স্থিমিত ছিল। কিন্তু জমিদার, মহাজনদের উপর গারোদের ক্ষোভ প্রশমিত হয়নি। সুযোগ পেলেই বিদ্রোহী গারোরা আবারো জমিদার, মহাজনদের উপর আক্রমণ চলাবে।

‘গারো হিল ডিস্টিক্টট গেজেটীয়ার’এর বরাত দিয়ে সুপ্রকাশ রায় জানিয়েছেন- ১৮৭০ সালে ব্রিটিশগণ জরীপ-কাজের জন্য সদলবলে গারো পাহাড় অঞ্চলে প্রবেশ করলে গারোরা তাদের উপর আক্রমণ করে।২৮ আক্রমণের ফলে বেশ কয়েক জন পুলিশ নিহত হয়, বাকীরা পালিয়ে যায়।২৯ ১৮৭১ সালে পুনঃজরিপের কাজ আরম্ভ হয়। তদুপলক্ষে ‘মিমেমরাম’ নামে একটি পর্বত-শৃঙ্গ পরিস্কারের প্রয়োজন দেখা দেয়। লেকজন সংগ্রহের জন্য ‘ফরমগিরি’ ও ‘বইগিরি’তে ২ জন কুলি পাঠান হয়। রংমাগিরিতে একটি কুলি গারোদের দ্বারা নিহত হয়, অপরটি পালিয়ে আসে।৩০ এ ঘটনায় ব্রিটিশ সরকার ব্যাপক পুলিশি তৎপরতা চালায়। তারা গারো গ্রামগুলোতে খানাতল্লাশি শুরু করে। কুলি হত্যাকারি সন্দেহে কয়েকজন গারোকে প্রেপ্তার করে। পুলিশি তান্ডবের প্রতিবাদে গারোরা ব্রিটিশ রক্ষণাধীন একটি গ্রামের উপর আক্রমণ করে। সে গ্রামের কয়েক জনকে হত্যাও করে। গারোরা এ সময় একটি পুলিশ ঘাটির উপরও হামলা করে। পরপর আক্রমণের ফলে ব্রিটিশ সরকার ভীষণভাবে ক্ষেপে উঠে। একটি বিশাল বাহিনী নিয়ে তারা গারো পাহাড় অঞ্চলে প্রবেশ করে। গারোদের ঘরবাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়ে প্রতিশোধ নেয়। তারা স্বাধীন গারো গ্রামগুলোর অস্থিত্ব রাখবেনা। গারোদের সকল গ্রামগুলোই তাদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসবে।৩১ স্বাধীন গারো গ্রামগুলো নিয়ন্ত্রনে নিয়ে আসার জন্য তিন কোম্পানি সৈন্য ও প্রায় পাঁচ‘শ [সহ¯্র ?] পুলিশ নিয়ে স্বাধীন গারো গ্রামগুলোতে প্রবেশ করে। তিন ভাগে বিভক্ত হয়ে ময়মনসিংহ ও আসামের দিক থেকে আক্রমণ আরম্ভ করে। অপর দলটি গারো পাহাড়ের ‘দিলমাগিরি’ স্থানটি দখল করে নেয়। দিলমাগিরি ছিল গারোদের প্রধান কেন্দ্র।৩২ ব্রিটিশ সেনারা গ্রামগুলো দখল করে নেয়ায় গারোরা মরিয়া হয়ে আক্রমণ শুরু করে। কিছু সেনা সদস্য ও পুলিশ সদস্য হত্যা ছাড়া তেমন সফল্য অর্জন করতে পারেনি গারোরা। অবশেষে গারোরা আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়।

ব্রিটিশ সরকার ১৮৮২ সালে ‘তুরা’ থেকে ‘বাঙালাঘাটা’ পর্যন্ত ১৮টি গ্রামের রাস্তা নিমার্ণের নিয়োগ করে।৩৩ অর্থাৎ ব্রিটিশরা গারোদের টাকার বিনিময়ে বশে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে ছিল।
আঠারটি গ্রামের রাস্তা নিমার্ণে নিয়োজিত গারোদের সঙ্গে এক পর্যায়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ দুর্ব্যবহার করতে শুরু করে। সে অবস্থায় গারোরা রাস্তা নিমার্ণের কাজ করবেনা বলে জানিয়ে দেয়। রাস্তা নিমার্ণের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। গারোরা আবারে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। বিদ্রোহী গারোরা অন্যান্য গ্রামের গারোদের কাজ বন্ধ করতে প্রচারনা চালায়। এতে ব্রিটিশদের রাস্তা নিমার্ণ তথা গারোদের বশে আনার প্রচেষ্টা ব্যর্থ হতে শুরু করে।

এ পরিস্থিতিতে গারো অঞ্চলের ডেপুটি কমিশনার শতাধিক সশস্ত্র পুলিশ নিয়ে বিদ্রোহী গারোদের দমন করতে আসেন। গারোরা তীর-ধনুক নিয়ে ডেপুটি কমিশনার ও পুলিশদের পথরোধ করতে সমবেত হয়।৩৪
ডেপুটি কমিশনার পুলিশ নিয়ে ভিন্নপথে গারো অঞ্চলে প্রবেশ করেন। এবং গারোদের অস্ত্রত্যাগের নির্দেশ দেন। গারোরা অস্ত্রত্যাগে সম্মত হয় নি। পুলিশ ক্ষিপ্ত হয়ে দুখানি গ্রামটি আগুনে পুড়িয়ে দেয়।৩৫ অবস্থার প্রেক্ষিতে গারো বিদ্রোহীরা আত্মসমর্পণে বাধ্য হয়। সরকারি বিবরণে ময়মনসিংহ জেলাধীন গারো পাহাড়ে গারোদের বিদ্রোহের খবর পাওয়া যায় নি।
গারো পাহাড় অঞ্চলে পাগলপন্থীদের আন্দোলন, বারবার গারোদের বিদ্রোহ ব্রিটিশ সরকার এর স্থায়ী সমাধান খুঁজছিলেন। তাই তারা প্রথমে ১৮৪৫ সালে জামালপুর মহুকুমা স্থাপন করেন। ১৮৮০ সালে নেত্রকোণা মহুকুমা স্থাপনের সিদ্ধান্ত হয়। ৩ জানুয়ারি ১৮৮২ সালে সে মহুকুমার কার্যক্রম শুরু করে।

এর পরেও ১৯০২ সালে ‘ডালগুমা’ ষ্টিমারঘাটে অনেক গারো তাদের পাহাড় পুনঃ স্বাধীনে নেয়ার জন্য একত্র হয়েছিল।৩৬ এ সংবাদ গোয়ালপাড়া পৌঁছামাত্রই সেখানকার ডেপুটি কমিশনার বহুসংখ্যক পুলিশ নিয়ে হাজির হয়। গারোরা ভীত হয়ে পলায়ন করে। আর কোন দিন গারোদের উৎপাতের খবর পাওয়া যায়নি।

আলী আহাম্মদ খান আইয়োব
লেখক ও গবেষক

সূ ত্র নি র্দে শ ও টি কা :
১. ময়মনসিংহের ইতিহাস: শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,সান্যাল এন্ড কোং, কলিকাতা, ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ
২. সোমেশ্বর (পাঠক) রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে রাজ্যের শ্রীবৃদ্ধি সাধন ও রাজ্যবৃদ্ধি চেষ্ঠায় মনোযোগী হন। মহাপুরুষের সৎ সঙ্গে ও সৎ উপদেশে এই রাজ্যের উৎপত্তি ও প্রতিষ্ঠার চিন্তা করেন। সোমেশ্বর (পাঠক) তাঁর এই নবপ্রতিষ্ঠিত রাজ্যকে ‘সুসঙ্গ’ নামে অভিহিত করেন। (সুসঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা: পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, সৌরভ, সম্পাদক- শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,ময়মনসিংহ, ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ১৩১৯ বঙ্গাব্দ)।
৩. সুসঙ্গ রাজ্যের প্রতিষ্ঠাতা: পূর্ণচন্দ্র ভট্টাচার্য্য, সৌরভ, সম্পাদক- শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,ময়মনসিংহ, ১ম বর্ষ, ২য় সংখ্যা, ১৩১৯ বঙ্গাব্দ
৪. বিগত শতাব্দীর প্রথম ভাগে খাসিয়া রাজা এই সকল স্থানগুলো দাবি করে সুসঙ্গরাজের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেছিলেন। মামলায় সুসঙ্গ রাজ জয়লাভ করেন। পরে ওই স্থানগুলো ব্রিটিশ গবর্ণমেন্ট গারোহিলের আর্ন্তভুক্ত করে নিয়েছিলেন।
৫. সোমেশ্বর ও সোমেশ্বরী: নরেন্দ্রনাথ মজুমদার, সৌরভ, সম্পাদক- শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,ময়মনসিংহ, ১ম বর্ষ, ৫ম সংখ্যা, ১৩১৯ বঙ্গাব্দ
৬. রাঙ্গাজুলি: রঙ্গজুলি? এই নামে একটি স্থান আছে ভারতের আসাম রাজ্যের গোয়ালপাড়া জেলায়। সম্ভবত এই স্থাটিকেই নির্দেশ করা হয়েছে। কেননা স্থানটি গারো পাহাড়ের সংলগ্ন। বর্তমানে রঙ্গজুলি গোয়ালপাড়া জেলার ৫টি রাজ্য চক্রের এটি একটি। এ ছাড়া এটি একটি উন্নয়ন খÐ।
৭. বাহারীস্তান-ই-গায়বী: (৩য় ও ৪র্থ খÐ) মির্জা নাথান, অনুবাদ- খালেকদাদ চৌধুরী, বাংলা একাডেমি ঢাকা, ১৯৮৯ খ্রিষ্টাব্দ
৮. ইমান ও নিশান বাংলার কৃষক চৈতন্যের এক অধ্যায়, পাগলাইধুম: ময়মনসিংহের কৃষক বিদ্রোহ: গৌতম ভদ্র, সুবর্ণরেখা, কলকাতা, (৩য় মুদ্রণ) ২০১৮ খ্রিষ্টাব্দ
৯. বাংলার দলিত আন্দোলনের ইতিবৃত্ত: সম্পাদক- ড.চিত্ত মন্ডল ও ড.প্রথমা রায়মন্ডল, একুশ শতক, কলকাতা, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
১০. ময়মনসিংহের রাজনৈতিক আন্দোলনের ঐতিহ্য: আবদুর রাজ্জাক, ময়মনাসংহের জীবন ও জীবিকা, জেলা পরিষদ ময়মনসিংহ, ১৯৮৭ খ্রিষ্টাব্দ
১১. ময়মনসিংহের ইতিহাস: শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,সান্যাল এন্ড কোং, কলিকাতা, ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ
১২. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: সুপ্রকাশ রায়, বুক ওয়ার্ল্ড, কলিকাতা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
১৩. ময়মনসিংহ ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি: সম্পাদক- বীরেন্দ্র চন্দ, উত্তরধ্বনি, শিলিগুড়ি ভারত, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ
১৪. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: সুপ্রকাশ রায়, বুক ওয়ার্ল্ড, কলিকাতা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
১৫. প্রাগুক্ত
১৬. আদিবাসী জাগরণ: সজলকান্তি দাসগুপ্ত, রেণু প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
১৭. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: সুপ্রকাশ রায়, বুক ওয়ার্ল্ড, কলিকাতা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
১৮. নেত্রকোণা জেলার ইতিহাস: আলী আহাম্মদ খান আইয়োব, গতিধারা, ঢাকা, ২০১১ খ্রিষ্টাব্দ
১৯. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (আসামের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ): শ্রীকৃষ্ণমোহন ধার, দিব্যপ্রকাশ, ঢাকা, ২০২০ খ্রিস্টাব্দ (পুণর্মুদ্রণ)
২০. গোয়ালপাড়া: ভারতের আসাম রাজ্যের একটি জেলা গোয়ালপাড়া। এ জেলার উত্তরে ব্র‏হ্মপুত্র নদ, পূর্বে কামরূপ, দক্ষিণে মেঘালয় রাজ্যের গারো পাহাড়, পশ্চিমে ধুবড়ী। এ জেলায় ৮১টি পঞ্চায়েত ও ৮৩৪টি গ্রাম রয়েছে। গোয়ালপাড়া জেলার অদিবাসীদের মধ্যে মুসলিম, হিন্দু সহ গারো, রাভা, হাজং, কলিতা, কোচ, রাজবংশী ইত্যাদি জাতিগোষ্ঠীর বসবাস রয়েছে।
২১. ময়মনসিংহের ইতিহাস: শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,সান্যাল এন্ড কোং, কলিকাতা, ১৯০৬ খ্রিষ্টাব্দ
২২. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: প্রাগুক্ত
২৩. ময়মনসিংহের বিবরণ: শ্রীকেদারনাথ মজুমদার,সান্যাল এন্ড কোং, কলিকাতা, ১৯০৪ খ্রিষ্টাব্দ
২৪. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: সুপ্রকাশ রায়, বুক ওয়ার্ল্ড, কলিকাতা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
২৫. আদিবাসী জাগরণ: সজলকান্তি দাসগুপ্ত, রেণু প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
২৬. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (আসামের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ): প্রাগুক্ত
২৭. বাংলার দলিত আন্দোলনের ইতিবৃত্ত: সম্পাদক- ড.চিত্ত মন্ডল ও ড.প্রথমা রায়মন্ডল, একুশ শতক, কলকাতা, ২০১৬ খ্রিষ্টাব্দ
২৮. ভারতের কৃষক বিদ্রোহ ও গণতান্ত্রিক সংগ্রাম: সুপ্রকাশ রায়, বুক ওয়ার্ল্ড, কলিকাতা, ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দ
২৯. আদিবাসী জাগরণ: সজলকান্তি দাসগুপ্ত, রেণু প্রকাশনী, কলকাতা, ২০১৯ খ্রিষ্টাব্দ
৩০. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (আসামের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ): প্রাগুক্ত
৩১. আদিবাসী জাগরণ: সজলকান্তি দাসগুপ্ত, প্রাগুক্ত
৩২. প্রাগুক্ত
৩৩. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (আসামের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ):
৩৪. ময়মনসিংহ ইতিহাস-সমাজ-সংস্কৃতি: প্রাগুক্ত
৩৫. বাংলার দলিত আন্দোলনের ইতিবৃত্ত: প্রাগুক্ত
৩৬. পূর্ববঙ্গ ও আসাম (আসামের ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক বিবরণ):

More from লাইফস্টাইলMore posts in লাইফস্টাইল »

Be Fir to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *