Press "Enter" to skip to content

পূর্বধলায় পূর্ব শত্রুতায় বসত বাড়িতে হামলা, ভাংচুর, লুটপাট, আহত ৩

নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের হবিবপুর গ্রামে গত ৩ আগস্ট সোমবার সন্ধ্যায় পূর্ব শত্রুতার জের ধরে প্রতিপক্ষের হামলায় একই পরিবারের পিতা, মাতা ও একমাত্র ছেলে আহত, বসতঘর ভাংচুর, নগদ টাকা, স্বর্ণালঙ্কারসহ প্রায় ৪লাখ টাকার মালামাল লুটের ঘটনা ঘটে। হবিবপুর গ্রামে মো. রহমত আলী, চাঁন মিয়া, হেলাল উদ্দিন, আয়াতুলসহ আরো ৬/৭জনের একটি দল একই গ্রামের মো. আতাবুর রহমানের বসত বাড়িতে হামলা করলে এ ঘটনাটি ঘটে। আহতরা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

আহত মো. আতাবুর রহমানের পরিবার সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন থেকে আতাবুর রহমানের সাথে একই গ্রামের রহমত আলীর এলাকায় প্রভাব বিস্তার করাকে কেন্দ্র করে বিরোধ চলে আসছিল। এ নিয়ে ৮ বছর আগেও আতাবুরের উপর রহমত আলী কয়েকজন লোক নিয়ে হামলা করেছিল। ঐ ঘটনায় আতাবুর রহমান বাদী হয়ে আদালতে অভিযোগ দায়ের করেন। মামলাটি চলমান আছে। এরই জেরে গত সোমবার ৩ আগস্ট সন্ধ্যায় মৃত. ইদ্রিস আলীর ছেলে মো. রহমত আলী (৪৭), চাঁন মিয়া (৪০), একই বাড়ির হেলাল উদ্দিন (৫০) তার ছেলে আয়াতুল (৩৫) সহ আরো ৬/৭জনের একটি দল দেশীয় অস্ত্র, লাঠিসোটা নিয়ে আতাবুর রহমানের বাড়িতে হামলা করে। আতাবুর রহমানকে রক্ষা করতে গেলে তার স্ত্রী সাজেদা খাতুন (৩৭) ও কলেজ পড়–য়া ছেলে মো. কাইয়ুম (১৭) আহত হয়। এ সময় রহমত আলী ও তার দলবল বাড়ি ভাংচুর ও লুটপাট করে। গরুর খামার করার জন্য আতাবুর রহমানের ঘরে রাখা নগদ প্রায় ৩লাখ টাকা, ২ভরি স্বর্ণালংকার লুট করে। বসতঘরে রাখা জিনিসপত্র ও ঘরটিতে ভাংচুর চালায়। বাড়ির লোকজন আহতদের উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য মো. আতাবুর রহমান ও তার স্ত্রী সাজেদা খাতুনকে নেত্রকোনা আধুনকি সদর হাসপাতালে প্রেরণ করেন। কাইয়ুম পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে।

এ ব্যাপারে আতাবুর রহমানের সাথে যোগাযোগ করা হলে বলেন, “রহমত আলী ও তার সঙ্গীদের সশস্ত্র হামলায় আমি, আমার স্ত্রী ও একমাত্র ছেলে মরতে মরতে বেঁচে গেছি। আমর পরিবারের প্রত্যেকেই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছি। আমি এই সন্ত্রাসী কর্মের উপযুক্ত বিচার চাই।”

মো. কাইয়ুম বলেন, “মা ও আমি বাবাকে বাঁচাতে গেলে রহমত আলীর লোকজন আমাদেরকে এলোপাতাড়িভাবে রামদা দিয়ে কুপাতে ও রড দিয়ে পিটাতে থাকে। আমি এর বিচার চাই।”

এ ব্যাপারে রহমত আলীর সাথে যোগাযোগ করতে চাইলে মোবাইল ফোনে তাকে পাওয়া যায়নি। রহমত আলীর সহোদর ভাই এনটেস আলীর সাথে এ ব্যাপারে সাংবাদিক পরিচয়ে প্রশ্ন করলে, তিনি ব্যস্ত থাকার অজুহাত দেখান। মারামারি ও লুটের বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি কোন উত্তর দিবেননা বলে জানান।
এ ঘটনায় আতাবুর রহমান ও রহমত আলী উভয় পক্ষই থানায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়ের করেছেন।

Be Fir to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *