Category: জাতীয়

  • পূর্বধলায় স্বেচ্ছাসেবী ও যুবসমাজের লকডাউন

    পূর্বধলায় স্বেচ্ছাসেবী ও যুবসমাজের লকডাউন

    নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে লকডাউন মানতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয়রা। প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রহণ করা হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ। সবাইকে হোম কোয়ারেন্টাইন মানতে গণমাধ্যমে প্রচার প্রচারণার পাশাপাশি কঠোর অবস্থানে রয়েছে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। সঙ্গে রয়েছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা।

    সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার মঙ্গলবাড়িয়া, রাজপাড়া, আমতলা, দিকজানসহ বিভিন্ন স্থানে স্বেচ্ছাসেবী ও স্থানীয় এলাকাবাসী মিলে বাঁশ কাঠ দিয়ে বেড়া তৈরি করে লক ডাউন করে দিচ্ছেন। যুব সমাজের উদ্যোগে রাস্তায় রাস্তায় চেয়ার টেবিল বসিয়ে লক ডাউন করে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষে কাজ করে যাচ্ছেন।

    লকডাউন ঘোষণার পর থেকেই উপজেলার প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় জনসাধারণকে ঘরে থাকার জন্য সতর্ক ও সচেতন করতে কাজ করে যাচ্ছেন সবাই। সরকারের নির্দেশ মতো নিয়মিত মহড়ার অংশ হিসেবে বিভিন্ন এলাকায় সচেতনতা মূলক মহড়া দেয় স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশ। ইতিমধ্যে বিভিন্ন বেসরকারি উদ্যোগে এবং সরকারের বরাদ্দকৃত খাদ্যসামগ্রী হতদরিদ্র মানুষের মাঝে বিতরণ করা হচ্ছে।

    জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে ঘুরাঘুরি করলে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে জানিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, বিশ্বজুড়ে মহামারি আকার ধারণ করছে করোনা ভাইরাস। এই ভয়ংকর করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা ও সতর্কতা সৃষ্টি করতে প্রতিনিয়ত কাজ করে যাচ্ছে প্রশাসন। এই দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকার সাধ্যমতো চেষ্টা করে যাচ্ছে।

    সবাইকে নিরাপদে ঘরে থাকার অনুরোধ করে তিনি আরো বলেন, আপনারা নিজেদের, পরিবারের ও দেশের স্বার্থে ঘরে থাকুন। নিজে নিরাপদ থাকুন এবং অপরকে নিরাপদ রাখুন। নিজেরদের নিরাপত্তার স্বার্থে সবাইকে সতর্ক ও সচেতন হওয়া জরুরী।

  • পূর্বধলায় করোনা সন্দেহে আরো ২জনের নমুনা সংগ্রহ

    পূর্বধলায় করোনা সন্দেহে আরো ২জনের নমুনা সংগ্রহ

    পূর্বধলায় আজ ৬ এপ্রিল সোমবার করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) আক্রান্ত সন্দেহে দুই জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি বিশেষ দল সন্দেহভাজন ব্যাক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে ল্যাবে প্রেরণ করেছে।

    মেডিকেল টীমে ছিলেন ডাঃ কনক প্রভা নন্দী, ডাঃ ওয়াহীদুর রহমান মামুন ও ল্যাব টেকনিশিয়ান খায়রুল ইসলাম। সন্দেহভাজন ব্যাক্তিরা হলেন গোয়ালাকান্দা ইউনিয়নের কিছমত বারেঙ্গা গ্রামের মৃত আব্দুল আজিজের ছেলে রমজান (৩৮) ও খলিশাউর ইউনিয়নের মনারকান্দা গ্রামের তারেক মিয়া। গত ৪-৫ দিন ধরে কাশি, জ্বর, গলাব্যাথা ও শ্বাসকষ্ট এই উপসর্গ গুলো তাদের মধ্যে পরিলক্ষিত হয়েছে। এ সময় সার্বিক বিষয়ে সহযোগিতায় উপজেলা চেয়ারম্যান উপস্থিত ছিলেন।

  • পূর্বধলা হোগলায় করোনা উপর্সগ নিয়ে একজনের মৃত্যু

    পূর্বধলা হোগলায় করোনা উপর্সগ নিয়ে একজনের মৃত্যু

    পূর্বধলা উপজেলায় আজ রবিবার সকালে করোনাভাইরাসের উপর্সগ নিয়ে নূরুন্নাহার (৪৫) নামের এক নারী মারা গেছেন। সে উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহর জোয়ার্দার পাড়া গ্রামের রকিব মিয়ার স্ত্রী। তিনি গত দুই দিন ধরে জ্বর, পাতলা পায়খানা ও শ্বাসকষ্টে ভুগছিলেন। নারীর মৃত্যুর খবরে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

    স্থানীয় চিকিৎসক মো. আবুল হাশিম জানান, গতকাল শনিবার ওই নারীর শরীরে ১০৪ ডিগ্রি তাপমাত্রার জ্বর, শ্বাসকষ্ট, পাতলা পায়খানা, উচ্চরক্তচাপ ও বমির সঙ্গে রক্ত ছিল। এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই নারীর বাড়িতে বিদেশফেরত কিংবা ঢাকা থেকেও কেউ আসেননি।

    হোগলা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন বলেন, মারা যাওয়া নারীর পরিবারের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে উপসর্গগুলো করোনার লক্ষণ মনে হওয়ায় উপজেলা ও স্বাস্থ্য বিভাগকে জানানো হয়। এ নিয়ে এলাকায় যাতে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না হয় সে দিকে লক্ষ রাখা হচ্ছে।

    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মাহমুদা আক্তার জানান, প্রাথমিক তথ্যের ভিত্তিতে রোগী ও তার সংস্পর্শে আসা কয়েকজনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। আজকের মধ্যেই ফলাফল পাওয়া যেতে পারে বলে তিনি জানান।

    পূর্বধলা থানার ওসি তাওহীদুর রহমান বলেন, ঘটনাস্থলে পুলিশের একটি টিম পাঠানো হয়েছে। মারা যাওয়া নারীর আশপাশের  ৫০টি বাড়ি ও চিকিৎসা প্রদানকারী পল্লী চিকিৎসকের বাড়ি লকডাউন করা হয়েছে(নমুনার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত)।

    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, নমুনার পরীক্ষার রিপোর্ট না পাওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে সকলের প্রতি আহ্বান জানানো হয়েছে। এতে অহেতুক বিভ্রান্তি ও ভীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি না করারও অনুরোধ জানান।

  • চাকরি হারানোর ভয়ে রাতে পিকাপে যাত্রা গার্মেন্টস কর্মীদের!!!

    চাকরি হারানোর ভয়ে রাতে পিকাপে যাত্রা গার্মেন্টস কর্মীদের!!!

    নেত্রকোনা পূর্বধলায় গতরাত ৩এপ্রিল শুক্রবার হতে বিভিন্ন রোডে ঢাকার দিকে বেয়ে যাচ্ছে গার্মেন্টস কর্মীদের স্রোত। বিভিন্ন এলাকা থেকে লোকজন ছোট ছোট যানবাহন পিকাপে করে, পায়ে হেঁটে ময়মনসিংহ থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ। কিন্তু ঢাকামুখী যানবাহন না পেয়ে চরম বেকায়দায় পড়েছেন তারা। পায়ে হেটেই ঢাকার দিকে যাচ্ছেন অনেকেই।

    করোনার এ মহামারীতে এমন জীবনের ঝুকি নিয়ে রাতে কেন যাচ্ছেন জানতে চাইলে শ্রমিকরা জানায়, ৫ তারিখ থেকে গার্মেন্টস খুলবে। আগেই ঢাকায় যেতে গার্মেন্টস থেকে বলা হয়েছে। সে কারণে করোনার ভয় নিয়ে কষ্ট করেই রওনা হয়েছেন তারা। যেতে না পারলে চাকরি চলে যাবে বলে জানান তারা।

  • আসুন আত্মঘাতী না হই – মো. গোলাম মোস্তফা

    আসুন আত্মঘাতী না হই – মো. গোলাম মোস্তফা

    মানুষের জীবনে রোগ থাকে, শোক থাকে, থাকে হাসি-আনন্দ। কারো রোগ-শোকে আপনজন এগিয়ে আসবে, সাহায্যের হাত বাড়াবে, পাশে থেকে সমবেদনা জানাবে, সাহস যোগাবে। কেউ মারা গেলে সৎকারে সামিল হবে। আর কারো হাসি-আনন্দে ভালো লাগবে অনেক ক্ষেত্রে অংশীদার হবে এটাই চিরন্তন। কিন্তু ভাবুন তো, কারো বাবা, মা, ভাই, বোন, সন্তান অথবা কোনো আপন কেউ একজন মারা গেছেন অথচ নিকটজন হয়েও তার কাছে যেতে পারছেন না! শেষ বিদায়ের করণীয়টুকুও করতে পারছেন না। তাদের কেউ একজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। অথচ আপনজন তার কাছে গিয়ে একটু সেবা করতে পারছেন না। সে এক ঘরে, একা বন্দি জীবন যাপন করছেন। তখন তাদের মনের অবস্থা কেমন হবে? কী করুণ আর বেদনাদায়ক-ই না।
    ইতিমধ্যে করোনা ভাইরাসে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে প্রায় ৪০ হাজার মানুষ মারা গেছে। আক্রান্ত সাত লাখের বেশি। আমাদের দেশেও ৫ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর। এর বাইরে করোনা ভাইরাসের লক্ষণ নিয়ে মারা গেছেন আরও কয়েক জন।
    সংবাদ মাধ্যমে জানা গেছে, করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত নারীর লাশ এলাকার কবরস্থানে দাফন করতে দেওয়া হচ্ছে না। সর্দি কাশিতে আক্রান্ত কাউকে হাসপাতালে ভর্তি করা হচ্ছে না। কেউ কেউ ইচ্ছা করেই হাসপাতালে যাচ্ছেন না। চিকিৎসা না পেয়েই ধুকেধুকে কেউ কেউ মারা যাচ্ছেন।
    মানুষকে বলা হয় সবচেয়ে মানবিক প্রাণি। বাস্তবেও তা-ই। এ জন্যই কারো দু:খে ব্যথিত হই। কারো সুখে আনন্দ পাই। প্রয়োজন-অপ্রয়োজনে প্রিয় মানুষটির কাছে থাকতেই ভালোবাসি। কিন্তু আজ আমরা এক নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি দাঁড়িয়ে। কী এক অমানবিক চিত্র-ই না দেখতে হচ্ছে আমাদের। এজন্য-ই বোধ হয় মানুষের জীবন বৈচিত্রময়।
    এমন পরিস্থিতিতে আমাদের করণীয় কী? চিকিৎসকরা বলছেন, নিজের জন্য, পরিবারের অন্যদের জন্য, সমাজের জন্য, সর্বোপরি রাষ্ট্রের জন্য এ অবস্থায় ঘরে থাকতে। ইতিমধ্যে সরকার সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে। ঘোষণা করেছে সাধারণ ছুটি।
    মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের সকল পর্যায় থেকে, বিভিন্ন সংগঠন, সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ আহবান জানাচ্ছেন অত্যাবশ্যকীয় প্রয়োজন ছাড়া ঘওে বাইরে বা জনসমাগমে না যেতে।
    অথচ দু:খজনক ভাবে দেখা যাচ্ছে, অনেকই এসবের তোয়াক্কা না করে বাইরে যত্রতত্র ঘোরাফেরা করছেন। আড্ডা দিচ্ছেন। স্টলে বসে চা খাচ্ছেন। বলুন তো এই মূহুর্তে চা খাওয়া, আড্ডা দেওয়া কী খুব জরুরী? কেউ কেউ নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে বসে আছেন। রাস্তাঘাট ফাঁকা পেয়ে দ্রুতগতিতে মোটরসাইকেল চালাচ্ছেন। মানা হচ্ছে না নিরাপদ দুরত্ব। কী আত্মঘাতী আচরণ-ই না করছি আমরা।
    এ সব বিষয়ে বিভিন্ন এলাকা থেকে মোবাইলে ও ফেইসবুক ম্যাসেঞ্জারে অনেকেই জানাচ্ছেন।
    একবার ভেবে দেখেছেন, এ দুর্যোগ সামাল দিতে যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, ফ্রান্স, চীনসহ বিশ্বের উন্নত রাষ্ট্রগুলো যেখানে হিমশিম খাচ্ছে, যেখানে প্রতিদিন লাশের মিছিল দেখছি। আর এ পরিস্থিতি আমাদের হলে (মহান সৃষ্টিকর্তা যেন এমন না করেন) আমরা কি তা সামাল দিতে পারব? অব্যশই কঠিন থেকে কঠিনতর হবে।
    তাহলে আসুন, নিজে এমন নির্মম বাস্তবতার মুখোমুখি হওয়ার আগে সচেতন হই। সরকারের নির্দেশনা ও স্বাস্থ্য বিধি মেনে চলি। আত্মঘাতী না হই।
    আমরা সবাই জানি, এ জন্য কষ্ট হয়ত হচ্ছে। খেটে খাওয়া মানুষদের কষ্টটা হচ্ছে বেশি। তবে সৃষ্টিকর্তা চাইলে আর আমরা সকলে সচেতন হলে এ কষ্ট সাময়িক।
    গবেষকরা বলছেন, এমন পরিস্থতিতে প্রকৃতি নাকি নির্মল শ্বাস নিচ্ছে। সারা পৃথিবীতে কার্বণ নি:সরণ কমেছে। কমেছে বায়ু দুষণ। যারা বেঁচে থাকবে সেই মানুষগুলোর জন্য বাসযোগ এ পৃথিবী আরও বেশি উপযোগী হচ্ছে।
    জানালা দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখুন, প্রকৃতি কি দারুণ সুন্দর সাজে সজ্জিত হচ্ছে। গাছে গাছে সবুজ পাতার সমাহার। ডাকছে পাখ-পাখালি। এরাও বোধ হয় আমাদের বলছে, তোমরা ঘরে থাক। তোমাদের জন্য আমারা পসরা সাজাচ্ছি। আর কয়দিন পরেই তা তোমাদের মধ্যে বিলিয়ে দেব। যখন তোমরা আবার কর্মময় জীবন নিয়ে বাইরে আসবে। প্রিয়জন নিয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যে আবার বিমোহিত হবে।

    মো. গোলাম মোস্তফা
    প্রধান শিক্ষক, মৌদাম সেসিপ মডেল উচ্চ বিদ্যালয়
    ও উপজেলা প্রতিনিধি, কালের কণ্ঠ, পূর্বধলা, নেত্রকোনা। মোবাইল: ০১৭১১৫১১২৯৯।

  • করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য পূর্বধলা হাসপাতাল ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আইসোলেশন কর্ণার

    করোনা ভাইরাস আক্রান্ত রোগীদের জন্য পূর্বধলা হাসপাতাল ও মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে আইসোলেশন কর্ণার

    নেত্রকোণার পূর্বধলায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্তদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা দিতে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে খোলা হয়েছে নতুন ওয়ার্ড। গত মঙ্গলবার হাসপাতালের দুইটি কেবিনে পাঁচটি বেড যুক্ত করা হয়েছে। নেত্রকোণা সিভিল সার্জনের মাধ্যমে পিপিই সরঞ্জামাদি প্রদান করা হয়েছে।
    স্যানিটারী ইন্সপেক্টর হাসিম উদ্দিন খান জানান, সারা দেশে সরকারি নির্দেশনায় করোনা ভাইরাসের সতকর্তার প্রস্তুতির জন্য আইসোলেশন ইউনিট খোলার নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। সেই মোতাবেক দুটি কেবিনে এই কর্ণার খোলা হয়েছে।
    হাসপাতালের চিকিৎসক ও নার্সদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য তারা আতঙ্কিত নয়। তবে কেউ এই রোগে আক্রান্ত হলে তারা সঠিকভাবে সেবা দেবেন। পূর্বধলার বিষয়ে তেমনভাবে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই।
    আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. হাবিবুর রহমান জানান, এটি ভাইরাস রোগ হওয়ায় সর্দি, কাশি ও অন্যান্য কারণে ছড়িয়ে পড়ে। তবে বাংলাদেশে এই ভাইরাস নিয়ে তেমনভাবে আতঙ্কিত নয় চিকিৎসকরা। কারণ ভাইরাসের সাধারণ একটি মৌসুম থাকে, মৌসুম শেষ হলে সাধারণ এক মাসের মাথায় ভাইরাসটি তেমনভাবে বিস্তার লাভ করতে পারে না।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, আক্রান্ত রোগীদের সেবা নিশ্চিতে প্রস্তুত আছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। আইসোলেশন ইউনিটে হাসপাতালের সিনিয়র-জুনিয়র চিকিৎসকরা থাকবেন রোগীদের সেবা দিতে।

    অপর দিকে পূর্বধলা উপজেলায় করোনা ভাইরাস মোকাবেলার প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পূর্বধলা উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে স্থাপনকৃত অস্থায়ী কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। হোগলা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন আজ বুধবার (২৫ মার্চ) ওই সেন্টারের জন্য ৫০টি বিছানা সামগ্রী প্রদান করেছেন।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের পক্ষ থেকে আবাসিক মেডিকেল অফিসার ভারপ্রাপ্ত ডা: হাবিবুর রহমান উক্ত উপকরণ গ্রহন করেন। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন, ডা: আজহারুল ইসলাম, ডা: ধ্রুব সাহা রায়, এলজিইডি কর্মকর্তা গোলাম সামদানী, সমবায় কর্মকতা মো: সাইফুল আলম প্রমুখ।
    এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুমের নির্দেশনা অনুযায়ী সন্দেহভাজন করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করার জন্য নব নির্মিত উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সকে অস্থায়ীভাবে কোয়ারেন্টাইন/আইসোলেশন সেন্টার হিসেবে ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত হয়।
    উপজেলা স্বাস্থ্য কম্পপ্লেক্সের ভারপ্রাপ্ত আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা: হাবিবুর রহমান জানান উক্ত ভবনের ১১টি কক্ষে ৩জন করে ৩৩টি শয্যা স্থাপন করা যাবে।ভাইরাসের সাধারণ একটি মৌসুম থাকে, মৌসুম শেষ হলে ভাইরাস এমনিতেই মরে যায়। চীনে এখন ভাইরাসটি কিছুটা কমে যাচ্ছে।

  • পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

    পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয়ে একাডেমিক ভবন নির্মাণে অনিয়মের অভিযোগ

    নেত্রকোণার পূর্বধলায় উপজেলা সদরের পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয়ে ৪ তলা ভিত বিশিষ্ট ১তলা একাডেমিক ভবন নির্মাণ কাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্মাণ কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে নি¤œমানের সামগ্রী। নির্মাণ কাজ তদারকির জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগের কোন কর্মকর্তা-প্রকৌশলীকে সেখানে পাওয়া যায়নি।
    সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যয়ে পূর্বধলা উচ্চ বিদ্যালয়ের নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হচ্ছে। মাহাদী এন্টারপ্রাইজ নামের একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান এ স্কুলের ভবন নির্মাণের কার্যাদেশ পায়।
    সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নিয়ম অনুযায়ী কার্যস্থলে নির্মাণ কাজের বিবরণ সম্বলিত সাইনবোর্ড দৃশ্যমান থাকার কথা থাকলেও তা টানানো হয়নি। কোন প্রকার মিক্সার ও বাইবাটার মেশিন না থাকায় হাত দিয়ে চলছে ঢালাই কাজ।
    প্রধান শিকের স্বেচ্ছাচারিতা আর নিরব ভূমিকার কারণে নি¤œমানে নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে বলে এমন অভিযোগ সচেতন এলাকাবাসীর। এ ব্যাপারে ঊর্দ্ধতন কর্তৃপরে হস্তপে কামনা করেছেন তারা।
    ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান জানান, আমরা স্কুল কর্তৃপক্ষকে কাজের তদারকির করার জন্য অনুরোধ করেছিলাম। কিন্তু প্রধান শিক্ষক এ বিষয়ে গুরুত্বই দিচ্ছেন না।
    প্রধান শিক সুদীপ চন্দ্র সরকার জানান, স্কুলের ভবন নির্মাণ কাজ ঠিক ঠাক মতোই হচ্ছে। আপনারা যদি মনে করেন যে কাজের মান খারাপ হচ্ছে; তাহলে তাই!। আমার প্রতিষ্ঠানে আমার মতোই কাজ হবে।
    ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি মাছুদ আলম তালুকদার টিপু বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। কর্মব্যস্ততার জন্য আমি প্রধান শিক্ষককে একটি কমিটি গঠন করে কাজ তদারকির জন্য বলেছি।
    এ ব্যাপারে নেত্রকোনা জেলা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী মো. সামিউল বলেন, বিষয়টি আমি অবগত নয়। আপনাদের মারফত খবর পাওয়া মাত্র নির্মাণ কাজ বন্ধ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তের পর অনিয়ম হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

  • পূর্বধলায় করোনাভাইরাস সচেতনতায় প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি

    পূর্বধলায় করোনাভাইরাস সচেতনতায় প্রশাসনের গণবিজ্ঞপ্তি

    বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাসের আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এ আতঙ্ক বাংলাদেশেও রয়েছে। আজ শুক্রবার (২০ মার্চ ) বিকাল ৩টায় নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলা প্রশাসন গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে।
    বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের তো বাংলাদেশেও করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা ভাইরাসের বিস্তার রোধে সকলকে সতর্ক থাকতে হবে। এজন্য বিদেশ থেকে আসা সকল ব্যক্তি এবং তঁার পরিবারের সদস্যদের সরকার কর্তৃক নির্দেশিত হোমকোয়ারেন্টাইন নিয়ম মেনে (১৪ দিন) চলতে হবে অর্থাৎ সকলকে পরবর্তী নির্দেশ না দেয়া পর্যন্ত নিজ গৃহে অবস্থান করতে হবে। কোনভাবেই বাড়ির বাইরে চলাফেরা করা যাবে না। এমনকি রাজনৈতিক, সামজিক, সভা-সমাবেশ,পর্যটন স্পটগুলোসহ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত থাকবে। অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইন মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
    উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে কুলসুম বলেন, প্রাণঘাতী করোনা ভাইরাস আমাদের দেশে ছড়িয়ে পড়ছে। করোনা প্রতিরোধে জনসচেতনতার জন্য আমরা গণবিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছি। ইউপি চেয়ারম্যানদেরকে বিদেশ থেকে আসা ব্যক্তিদের সঠিক তথ্য প্রদানের জন্য বলা হয়েছে। বিদেশ ফেরতদের ১৪ দিনের মধ্যে ঘর থেকে বের হতে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। করোনা ভাইরাস সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য প্রচার-প্রচারণা, পোস্টার ও মাইকিং কার্যক্রম করা হচ্ছে। বাজারের দ্রব্যমূল্যের দাম ঠিক রাখার জন্য ব্যাপক প্রচারণা চালানো হচ্ছে এবং আগামীকাল শনিবার (২১ মার্চ) থেকে অভিযান পরিচালনা করা হবে।
    উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মাহমুদা আক্তার বলেন, বিদেশ থেকে আসা এখন পর্যন্ত ১০০ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে মাত্র ৭ জনকে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ এড়াতে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়েছে। বাকী ৯৩ জনের খোঁজ খবর চালিয়ে যাচ্ছি।
    তিনি আরও বলেন, করোনা ভাইরাস সংক্রমণের নিয়ে আতঙ্কিত হবেন না। আমরা জনসাধারণকে সচেতনতার জন্য প্রচার কাজ চালিয়ে যাচ্ছি। তবে সবাইকে সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। বিশেষ করে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া, জ্বর-সর্দি-কাশি, গলা ও শরীর ব্যথা হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

  • পূর্বধলায় বিদেশফেরত ৭৫, কোয়ারেন্টাইনে ৩ জন!

    পূর্বধলায় বিদেশফেরত ৭৫, কোয়ারেন্টাইনে ৩ জন!

    নেএকোণার পূর্বধলায় বিদেশফেরত ৭৫ জন, কিন্তু কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৩ জন।

    এদিকে আজ বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকেলে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের বিশেষ শাখায় ইমিগ্রেশন বিভাগ থেকে পাঠানো এক তালিকায় জানানো হয়েছে, গত ১ মার্চ থেকে ১৮ মার্চ পর্যন্ত বিদেশফেরত ব্যক্তিদের মধ্যে ৮১০ জনের বাড়ি নেত্রকোনায়। তাদের মধ্যে আটপাড়ার ৬২ জন, সদর উপজেলার ২১৪ , বারহাট্টার ৩৪, মদনের ৪৮ , খালিয়াজুরির ২৫, মোহনগঞ্জের ৭৩, পূর্বধলার ৭৫, কলমাকন্দার ২৪, দুর্গাপুরের ৭৭ জন রয়েছেন। তাদের ব্যাপারে পুলিশ খোঁজ নিচ্ছে।

  • পূর্বধলায় ‘কমিউনিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভা

    পূর্বধলায় ‘কমিউনিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভা

    নেত্রকোণার পূর্বধলায় ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ পূর্বধলা এপি নেত্রকোণা এপিসি’র আয়োজনে ‘কমিউনিকেশন ফর ডেভেলপমেন্ট’ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বিকালে উপজেলার উত্তর কালডোয়ারে শিশু ফোরাম, গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্যবৃন্দ ও রেজিষ্টার্ড শিশুদের অংশগ্রহণে এ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়।
    উত্তর কালডোয়ার গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সভাপতি কাঞ্চল দত্তের সভাপতিত্বে মূখ্য আলোচক ছিলেন, পূর্বধলা এপির প্রোগ্রাম অফিসার মানসী মোদক। বক্তব্য রাখেন, এপির স্পন্সরশীপ অফিসার ফ্রান্সিস রুপী গোমেজ, সাংবাদিক প্রতিনিধি সাদ্দাম হোসেন প্রমুখ।
    অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর কালডোয়ার গ্রাম উন্নয়ন কমিটির সদস্য মোঃ দুলাল মিয়া, সিরাজুল ইসলাম, আল আমীন, আকবর আলীসহ এপির অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দ।
    আলোচনা শেষে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধ বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয় এবং সচেতনামূলক লিফলেট বিতরণ করা হয়।

  • পূর্বধলায় ৩ জনসহ নেত্রকোনায় ১০জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

    পূর্বধলায় ৩ জনসহ নেত্রকোনায় ১০জন হোম কোয়ারেন্টাইনে

    নেত্রকোনা পূর্বধলায় কলেজ রোড এলাকায় স্পেন থেকে দুই ব্যক্তি এবং হোগলা ইউনিয়নে বাহরাইন থেকে ওই যুবক নিজ এলাকায় আসেন।

    এরপর তারা প্রথমে আত্মীয়-স্বজন ও শহরের বিভিন্ন এলাকায় চলাফেরা করেন। এতে এলাকার লোকজন করোনাভাইরাস আতঙ্কে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগকে খবর দেন। পরে প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের উদ্যোগে তাদের হোম কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়।

    করোনাভাইরাস প্রতিরোধ কমিটির পক্ষ থেকে সার্বক্ষণিক তাদের স্বাস্থ্যের খোঁজ নেয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাদের পরিবারের লোক-জনদেরও বাইরে চলাফেরা ও মানুষের সঙ্গে মেলামেশা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
    করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হতে পারে সন্দেহে নেত্রকোনায় বিদেশ ফেরত ৫৯ জনের তালিকা পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ১০ জনকে ‘হোম কোয়ারেন্টাইনে’ রাখা হয়েছে। বাকিদের তথ্য এখনও জানে না জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ।

    তবে ৫৯ জনের তালিকা পেয়ে বিদেশ ফেরতদের খোঁজ-খবর নিচ্ছে সিভিল সার্জন অফিস। তারা ইতালি, চীন, ওমান, দুবাই, সিঙ্গাপুর, জর্ডান, মালয়েশিয়া, স্পেন ও বাহরাইন থেকে ফেরত। তাদের মধ্যে দুজন নারী রয়েছেন।

    স্থানীয় বাসিন্দা ও জেলা সিভিল সার্জনের কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ১০ জনের মধ্যে নেত্রকোনা শহরের আরামবাগ এলাকায় এক দম্পতি গত ৮ মার্চ ইতালি থেকে নিজ বাসায় আসেন।