নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় বিষপানে রুপা আক্তার (১৯) নামে এক তরুণী গৃহবধূর মৃত্যুর ঘটনার নেপথ্যে চুরির অপবাদের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে। টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ সইতে না পেরেই ওই গৃহবধূ বিষপান করেছেন বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। এই ঘটনায় আজ শনিবার দুপুরে অভিযুক্ত শাশুড়ি শরিফা খাতুনকে গ্রেপ্তার করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ।
পূর্বধলা থানা পুলিশ জানায়, উপজেলার ৩ নম্বর ঘাগড়া ইউনিয়নের সানকিডুয়ারী গ্রামের আব্দুল মতিনের মেয়ে রুপা আক্তারের সাথে মাত্র ১১ মাস পূর্বে একই গ্রামের নাঈম খানের (২২) বিয়ে হয়। গত ৪-৫ দিন আগে রুপার শাশুড়ি শরিফা খাতুন বসতঘরের ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে ২০ হাজার টাকা রাখেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে ১০ হাজার টাকা নিখোঁজ হয়ে যায়।
ওই টাকা চুরির ঘটনায় কোনো প্রমাণ ছাড়াই সরাসরি পুত্রবধূ রুপা আক্তারকে ‘চোর’ সন্দেহ করে তাঁর স্বামী নাঈম খান এবং শাশুড়ি শরিফা খাতুন। এ নিয়ে গত কয়েকদিন ধরে রুপাকে প্রচণ্ড মানসিক নির্যাতন এবং কথা কাটাকাটি করা হয়।
টাকা চুরির এমন মিথ্যা ও জঘন্য অপবাদ সইতে না পেরে গত গতকাল শুক্রবার (২২ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঘরের ভেতর বিষপান করেন রুপা আক্তার। ঘটনার পর বেশ কিছুক্ষণ বিষয়টি গোপন রেখে দুপুরের দিকে (বেলা ২টায়) স্বামী ও শাশুড়ি মিলে রুপাকে অচেতন অবস্থায় পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ শনিবার (২৩ মে) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে কর্তব্যরত চিকিৎসক রুপাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত্যুর খবর পাওয়ার পরপরই পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশে পুলিশ হাসপাতালে গিয়ে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ঘটনার মূল হোতা শাশুড়ি শরিফা খাতুনকে তাৎক্ষণিক গ্রেপ্তার করে।
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “১০ হাজার টাকা চুরির মিথ্যা অপবাদ দিয়ে ওই তরুণী গৃহবধূকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচিত করা হয়েছে। খবর পাওয়া মাত্রই আমরা অভিযুক্ত শাশুড়িকে গ্রেপ্তার করেছি। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠানো হচ্ছে। এই ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে এবং পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।”