মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ 08:52 pm

পূর্বধলার কৃতি সন্তান ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী আইইডিসিআরের নতুন পরিচালক

প্রকাশ: ১৬ জুন ২০২৬, ৭:৫১ পিএম

দেশের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণার শীর্ষ প্রতিষ্ঠান আইইডিসিআরের (IEDCR) নতুন পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের আগিয়া পশ্চিমপাড়া গ্রামের কৃতি সন্তান ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী। তাঁর এই গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগে পূর্বধলাবাসীর মধ্যে আনন্দ ও গর্বের অনুভূতি ছড়িয়ে পড়েছে।

ডা. কাজী আহম্মেদ জাকীর পারিবারিক ও শিক্ষাজীবনও অত্যন্ত সমৃদ্ধ। তাঁর পিতা কাজী আবুল ফিদা বাংলাদেশ রেলওয়ের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী (Chief Engineer) হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। মা হোসনেরা ফারূজ জাতীয় শিক্ষা ব্যবস্থাপনা একাডেমি (NAEM)-এর সাবেক মহাপরিচালক ছিলেন। পারিবারিকভাবে শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও জনসেবার আদর্শে বেড়ে ওঠা ডা. জাকী ছাত্রজীবন থেকেই মেধার স্বাক্ষর রেখে আসছেন।

তিনি দেশের অন্যতম স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ঢাকা রেসিডেনসিয়াল মডেল কলেজ থেকে মাধ্যমিক এবং নটরডেম কলেজ, ঢাকা থেকে উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ থেকে এমবিবিএস ডিগ্রি অর্জন করে চিকিৎসা পেশায় আত্মনিয়োগ করেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে জনস্বাস্থ্য, রোগতত্ত্ব, গবেষণা ও স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনায় দক্ষতা ও পেশাদারিত্বের পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

গত ১৫ জুন আইইডিসিআরের অডিটোরিয়ামে নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. কাজী আহম্মেদ জাকীকে বরণ এবং বিদায়ী পরিচালক অধ্যাপক তাহমিনা শিরীন-কে সম্মাননা প্রদান উপলক্ষে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

নবনিযুক্ত পরিচালক ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী তাঁর বক্তব্যে বলেন, “আইইডিসিআর একটি দক্ষ ও নিবেদিতপ্রাণ পরিবারের নাম। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা, আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও এগিয়ে নেওয়া সম্ভব। আমি আশা করি, আমরা সবাই মিলে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা, গবেষণা ও রোগ নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে পারব এবং জনগণের আস্থা ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে সক্ষম হব।”

অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আইইডিসিআরের মেডিকেল অফিসার (এপিডেমিওলজি) ডা. মো. ফয়জুল ইসলাম।

এসময় শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন প্রশাসনিক কর্মকর্তা আমিনা আক্তার, সিনিয়র মেডিকেল টেকনোলজিস্ট মোহাম্মদ আলী জিন্নাহ, মেডিকেল অফিসার ডা. মাইনুল হাসান ও ডা. জাহিদুর রহমান, সহযোগী অধ্যাপক ডা. সোহেল রহমান, ডা. মাহবুবুর রহমান, ডা. মোনালিসা ও ডা. শারমিন সুলতানা, প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা রঞ্জু দাস, সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুস্তাক আহমেদ এবং প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা অধ্যাপক নওশের আলম।

স্থানীয়রা জানান, পূর্বধলার প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে উঠে এসে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জনস্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানের নেতৃত্বে আসীন হওয়া ডা. কাজী আহম্মেদ জাকী নতুন প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত। তাঁর এই অর্জনে আগিয়া ইউনিয়নসহ সমগ্র পূর্বধলা উপজেলার মানুষ গর্বিত।

মতামত দিন