নারায়ণগঞ্জের বন্দরে গ্যাস লিকেজ থেকে সৃষ্ট ভয়াবহ বিস্ফোরণে দগ্ধ একই পরিবারের তিন সদস্য চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহতরা হলেন- মা সুলতানা বেগম, বাবা আব্দুল মান্নান (মান্নান মিয়া) এবং তাদের শিশু সন্তান সিয়াম। মঙ্গলবার (১৬ জুন) সকালে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার জারিয়া ইউনিয়নের দলদলা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে পাশাপাশি তাদের দাফন সম্পন্ন হয়েছে।
এদিকে পরিবারের একমাত্র জীবিত সদস্য ১৩ বছর বয়সী মেয়ে মিম রাজধানীর জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছে। তার শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে বলে হাসপাতাল সূত্র জানিয়েছে।
স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, জীবিকার তাগিদে সবজি বিক্রেতা আব্দুল মান্নান পরিবার নিয়ে নারায়ণগঞ্জে বসবাস করতেন। গত সোমবার রাতে তিনজনের মরদেহ গ্রামের বাড়ি দলদলা গ্রামে পৌঁছালে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। মঙ্গলবার সকাল ৯টায় জানাজা শেষে বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতিতে তাদের দাফন করা হয়।
হাসপাতাল ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ জুন ভোরে নারায়ণগঞ্জের বন্দর উপজেলার মদনপুর ইউনিয়নের চাঁনপুর এলাকায় একটি ভাড়া বাসায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, বন্ধ ঘরে সারারাত এলপিজি সিলিন্ডার থেকে গ্যাস লিক হয়ে জমে ছিল। ভোরে গৃহবধূ সুলতানা বেগম রান্নাঘরে আগুন জ্বালানোর সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে। এতে পরিবারের সদস্যরা গুরুতর দগ্ধ হন।
হাসপাতাল সূত্রে জানাযায়, চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১২ জুন প্রথমে সুলতানা বেগম মারা যান। পরে ১৫ জুন ভোরে আব্দুল মান্নান এবং একই দিন সকালে তাদের ছেলে সিয়ামের মৃত্যু হয়। মেয়ে মিমের শ্বাসনালীসহ শরীরের ৪১ শতাংশ দগ্ধ হয়েছে এবং তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। এছাড়া একই ঘটনায় দগ্ধ প্রতিবেশী শিশু হযরত আলীও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছে।
পরিবারের তিন সদস্যের মৃত্যুতে দলদলা গ্রামসহ পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।