নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলা সদরে পশুর হাট ইজারা নিয়ে দুপুরের সংঘর্ষের রেশ ছড়িয়ে পড়েছে গ্রামীণ জনপদেও। আজ বুধবার (২০ মে) আনুমানিক বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার আগিয়া বাজারে স্থানীয় যুবদল কর্মী সাহরিয়ার ওমর শরীফকে নির্মমভাবে মারধর এবং তাঁর ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি পুড়িয়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
গুরুতর আহত শরীফ বর্তমানে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তাঁর মাথায় ধারালো অস্ত্রের আঘাত লেগে সৃষ্ট গভীর ক্ষতস্থানে কয়েকটি সেলাই দেয়া হয়েছে, এছাড়াও তাঁর শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর আঘাতের চিহ্ন দেখা গেছে।
এই ঘটনার খবর পেয়ে পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতৃবৃন্দ দ্রুত হাসপাতালে আহত শরীফকে দেখতে যান এবং পরবর্তীতে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শনকালে উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার সাংবাদিকদের কাছে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “শরীফ এখন হাসপাতালের বেডে ব্যথায় ছটফট করছে। আগিয়া বাজারের এখানকার কিছু নামধারী চিহ্নিত সুযোগ সন্ধানী লোক, যারা আগে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সাথে জড়িত ছিল এবং এখন খোলস বদলে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছে, তারা সম্পূর্ণ বিনা উস্কানিতে শরীফের ওপর এই বর্বরোচিত আক্রমণ চালায়। তারা শুধু শরীফকে পিটিয়ে মাথা ফাটিয়েই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর মোটরসাইকেলটিতেও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে।”
এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন— পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েদ আল মামুন শহীদ, যুগ্ম আহ্বায়ক রুহুল আমিন ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বাবুসহ স্থানীয় যুবদল ও ছাত্রদলের নেতা-কর্মী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আগিয়া বাজারে ঘঠনার খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুপুরের উপজেলা পরিষদের ঘটনার সাথে এর কোনো যোগসূত্র আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি আমরা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করছি এবং জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।”