নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামী নেতা মাছুম মোস্তফাকে অবরুদ্ধ করা ও তাঁর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত সোয়া দুইটার দিকে এমপির ব্যক্তিগত সহকারী মো. আল আমিন বাদী হয়ে পূর্বধলা থানায় এই মামলাটি করেন। মামলায় উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মো. আবু তাহের তালুকদারকে প্রধান আসামি করে ৬০ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫০-৬০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মামলা দায়েরের পর রাতেই পুলিশ সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে। নেত্রকোনা জেলা পুলিশ সুপার মো. তরিকুল ইসলাম জানান, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মামলার ২০ নম্বর আসামি মো. খায়রুল ইসলাম রয়েছেন, বাকি ৮ জন সন্দেহভাজন। পলাতক আসামিদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল শুক্রবার বিকেলে একটি মাদ্রাসার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন শেষে উপজেলা সদরে ফেরার পথে সন্ধ্যায় আতকাপাড়া গিরিপথ ফিলিং স্টেশনে মাগরিবের নামাজ পড়তে নামেন এমপি মাছুম মোস্তফা। প্রত্যক্ষদর্শী ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, এসময় ১৫-২০টি মোটরসাইকেলে আসা একদল যুবক পাম্পে হট্টগোল শুরু করে এবং এমপির ব্যক্তিগত গাড়িটি ভাঙচুর করে। এমপি নামাজ শেষ করে বের হতে চাইলে তাঁকে ধাওয়া করে অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। প্রায় এক ঘণ্টা পর উপজেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার ও অতিরিক্ত পুলিশ এসে তাঁকে উদ্ধার করে।
সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা এক সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন, “আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই বিএনপির নেতাকর্মীরা এই হামলা চালিয়েছে। “
অন্যদিকে, প্রধান আসামি ও উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আবু তাহের তালুকদার অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “ঘটনার সময় আমি ঢাকায় ছিলাম। খবর পেয়ে আমাদের দলের যুগ্ম আহবায়ক বাবুল আলম তালুকদারকে পাঠিয়ে পরিস্থিতি সামাল দিয়েছি। অথচ ষড়যন্ত্রমূলকভাবে আমাকে ও আমাদের নেতাকর্মীদের নামে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। আমরা এই প্রতিহিংসার রাজনীতির তীব্র নিন্দা জানাই।”
উল্লেখ্য, গত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মাছুম মোস্তফা জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে জয়ী হন এবং আবু তাহের তালুকদার ধানের শীষ প্রতীকে তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন।