Press "Enter" to skip to content

পূর্বধলায় প্রশাসনের নীরবতায় মোটরসাইকেল চোর সিন্ডিকেট বেপরোয়া

দর্পন ডেস্ক: নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলায় মোটরসাইকেল চুরির সিন্ডিকেটের সদস্যরা আবারও বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। গত দু’মাসের ব্যবধানে উপজেলার বিভিন্ন জায়গা থেকে প্রায় ১০/১২টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্র নিশ্চিত করেছে। একটি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেট চুরির ঘটনায় সক্রিয়ভাবে জড়িত। তারা বয়সে তরুণ। বিলাসবহুল জীবনযাপনে অভ্যস্ত এ তরুণরা মোটরসাইকেল চুরির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীতেও তোলপাড় চলছে।
পূর্বধলা সদর থেকে একের পর এক মোটরসাইকেল চুরি হওয়ায় মোটরসাইকেল চোরদের ধরতে বিভিন্ন পয়েন্টে পুলিশ তৎপরতা নেই বলে অভিযোগ রয়েছে চুরি হওয়া মোটরসাইকেল মালিকসহ সাধারণ লোকজনের। মোটরসাইকেল চুরি ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে কম, সাধারণ ডায়েরী (জিডি) হয়েছে বেশি। ভুক্তভোগী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মোটরসাইকেল চোর আটকের বিষয়ে পুলিশ আন্তরিক নয়। যার কারণে পূর্বধলায় এ পর্যন্ত ১০/১২টি মোটরসাইকেল চুরি হয়েছে। কিন্তু ১/২টি উদ্ধার হলেও অন্যান্য মোটরসাইকেলগুলো উদ্ধার করতে পারেনি পুলিশ। এ ছাড়া অনেক চুরির ঘটনা থানা পর্যন্ত পৌঁছায় না।
গত বৃহস্পতিবার উপজেলার গার্লস স্কুল রোডে ডাঃ দ্বীজেশ রঞ্জন ভৌমিক সুমনের সামনে থেকে একটি হিরো স্পেøন্ডার প্রো লাল রংরের ১০০ সিসি, নেত্রকোণা হ-১১-৪০০৯ নাম্বারসহ মোটরসাইকেল চুরি হয়। মোটরসাইকেল মালিক মোঃ ওয়ালী উল্লাহ জানান, এ ঘটনায় পূর্বধলায় থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেছি (জিডি নং ২৬০ তারিখ ০৬/১২/১৯)। গত ১০ নভেম্বর উপজেলা সদরের আমতলা এলাকা থেকে ছাত্রলীগ নেতা জাহিদ হাসানের এপাচি আরটিআর ১৬০ সিসি মডেলের একটি মোটরসাইকেল, গত ২৯ নভেম্বর রাতে পূর্বধলা উত্তর রাজপাড়া (মঙ্গলবাড়িয়া) পূজামন্দিরের সামনে কীর্তন চলাকালে ডিসকভার ১১০সিসি একটি মোটর সাইকেল, পূর্বধলা গ্রামীণ ব্যাংকের কার্যালয়ের সামনে থেকে পরপর দুইটি মোটরসাইকেল চুরি ঘটনা ঘটেছে। এর অনেক পূর্বে গার্লস স্কুল রোড আরো ৩/৪টি মোটর সাইকেল চুরির ঘটনা ঘটেছে। সচেতন মহল জানান, পুলিশের কাছে অসম্ভব বলতে কিছু নেই। ইচ্ছা করলেই পুলিশ মোটরসাইকেল উদ্ধার করতে পারবে। কিন্তু এ বিষয়ে কেন জানি পুলিশ নীরব ভূমিকা পালন করছে।
থানার এসআই মুক্তার হোসেন জানান, মোটরসাইকেল চোরদের বিরুদ্ধে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ না পাওয়ায় চোরদের আটক করা সম্ভব হচ্ছে না। চুরি রোধে পুলিশের আন্তরিকতার কোনো ঘাটতি নেই।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ মোঃ তাওহীদুর রহমান বলেন, মোটরসাইকেল চুরি রোধে পুলিশ কঠোর অবস্থানে রয়েছে। তিনি পূর্বধলা বাজারের বিভিন্ন পয়েন্টে মোট ২৬ সিসি টিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হবে প্রয়োজনে আরো ক্যামেরা বৃদ্ধি করা হবে। মোটরসাইকেল মালিক ও সাধারণ জনগণ পুলিশকে সহযোগিতা করলে ও একটু সতর্ক হলে আর চুরি হবে না। তিনি আরও বলেন, পুলিশ যে কোনো অপরাধ দমনে সোচ্চার। পুলিশ আন্তরিকভাবে মোটরসাইকেল চুরিসহ সব অপরাধ দমনে তৎপর। চুরি রোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

Be Fir to Comment

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *