বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি! ব্যাখ্যা দিলেন তারেক রহমান – পূর্বধলার দর্পন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল

বিরোধী দলের সংসদ সদস্যের এলাকায় নারী এমপিদের উন্নয়ন তদারকি! ব্যাখ্যা দিলেন তারেক রহমান

প্রতিবেদক: দর্পন নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: June 10, 2026

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের নির্বাচনী এলাকায় সরকার দলীয় নারী সংসদ সদস্যদের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকির দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়ে জাতীয় সংসদে সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি স্পষ্ট করেছেন, নারী সংসদ সদস্যদের নির্দিষ্ট কোনো আসন না থাকায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক কাঠামোর ভিত্তিতে এই দায়িত্ব বণ্টন করা হয়েছে, তবে এতে এলাকার নির্বাচিত মূল সংসদ সদস্যদের অধিকার বা হকে কোনো ক্ষুণ্ন হবে না।

​আজ বুধবার (১০ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে ঢাকা-১৪ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি এই ব্যাখ্যা দেন।

সংসদ অধিবেশনে প্রশ্ন তোলার সময় জামায়াতের সংসদ সদস্য মীর আহমাদ বিন কাসেম সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের বরাত দিয়ে বলেন, সরকার দলীয় নারী এমপিদের বিরোধী দলের এমপিদের এলাকায় উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তদারকি এবং জিও লেটার (গভ. অর্ডার লেটার) ইস্যুর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এ সময় তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে জানতে চান, “এই তথ্য থেকে আমাদের মনে হচ্ছে, তাদেরকে এই কাজ কি এইজন্য দেওয়া হচ্ছে যাতে আমরা যারা বিরোধীদলীয় এমপি আছি, আমাদের এলাকার উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে আমাদের কোনো হাত থাকবে না?”

সংসদ সদস্যের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অত্যন্ত ইতিবাচকভাবে বিষয়টি পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “আপনি বোধহয় জানেন, আমাদের বা আপনাদের দল থেকে যেসব নারী সদস্যকে সংসদ সদস্য হিসেবে নির্বাচিত করা হয়েছে, সংবিধানে বা আইনে নির্দিষ্টভাবে তাদের কোনো (আঞ্চলিক) আসন নেই।”

​প্রধানমন্ত্রী আরও উল্লেখ করেন, সে কারণেই “খুব স্বাভাবিকভাবে আমাদের যে রাজনৈতিক বা সাংগঠনিক কাঠামো আছে, তার ভিত্তিতে আমরা দলীয় অবস্থান থেকে তাদের জন্য কিছু জায়গা নির্দিষ্ট করেছি যে তারা কোথায় কোথায় কাজ করবে।”

বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যদের আশ্বস্ত করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে আপনার নির্বাচনি এলাকায় আপনার সম্পূর্ণ হক আছে যে আপনি আপনার এলাকার উন্নয়নের ব্যাপারে কীভাবে ভূমিকা রাখতে চান। কিন্তু যেহেতু এই সংসদ এই নারী নেতৃবৃন্দকে নির্বাচিত করেছে, সেহেতু খুব স্বাভাবিকভাবেই তাদেরও একইরকমভাবে হক আছে।” সেই সমতার চিন্তা থেকেই সরকারের নিয়ম অনুযায়ী খুব স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসন এগোচ্ছে বলে তিনি জানান।

​উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে দল-মত নির্বিশেষে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিরোধী দলের এমপিদের উদ্দেশে বলেন, “আপনার এলাকার উন্নয়নে যদি আমার কোনো সহযোগিতা করা লাগে, আপনি জানাবেন, আমি সরাসরি সহযোগিতার চেষ্টা করবো।”

উল্লেখ্য, জিও লেটার বা গভমেন্ট অর্ডার লেটার (Government Order Letter) হলো কোনো এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি (এমপি, মন্ত্রী বা দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি) কর্তৃক সরকারি দপ্তরের কাছে দেওয়া একটি আনুষ্ঠানিক সুপারিশ বা অনুমোদনপত্র। সাধারণত কোনো নির্দিষ্ট এলাকায় নতুন উন্নয়ন প্রকল্প গ্রহণ, রাস্তাঘাট-সেতু মেরামত, স্কুল-কলেজের অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা অন্যান্য সরকারি বিশেষ সুবিধা ও তহবিল বরাদ্দের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট এলাকার জনপ্রতিনিধির এই জিও লেটার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আইনি ভূমিকা পালন করে।

​সংসদে প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিক ও সহযোগিতাপূর্ণ বক্তব্যে রাজনৈতিক অঙ্গনে এবং সংসদ সদস্যদের মাঝে একটি ইতিবাচক ও সৌহার্দ্যপূর্ণ আবহ তৈরি হয়েছে।