বর্তমান সময়ে তরুণ ও কিশোর প্রজন্মের মাঝে মারাত্মক আকার ধারণ করা ক্ষতিকর অনলাইন গেমস, বেটিং ও জুয়ার থাবা থেকে সন্তানদের রক্ষা করতে এক অভিনব ও সচেতনতামূলক অভিযান পরিচালনা করেছে পূর্বধলা থানা পুলিশ। গতকাল বৃহস্পতিবার (০৪ জুন) বিকেল ৫টা থেকে সাড়ে ৭টা পর্যন্ত পূর্বধলা সদর এবং ঐতিহ্যবাহী রাজধলা বিল এলাকায় বখাটেদের উৎপাত বন্ধে ও জুয়া বিরোধী এই বিশেষ অভিযান চালানো হয়।
অভিযানকালে অপ্রাপ্তবয়স্ক বেশ কিছু কিশোরের মোবাইল ফোনে ক্ষতিকর গেমসের অ্যাপ ও অবৈধ বেটিং সাইট পাওয়ায় তাদের ফোনগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসা হয়। পরবর্তীতে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে অভিভাবকদের ডেকে এনে ফোনগুলো বুঝিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, পূর্বধলা সদর ও রাজধলা বিলের আশপাশের এলাকায় ইদানীং অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের আড্ডা এবং বখাটেদের উৎপাত বৃদ্ধি পাওয়ার সুনির্দিষ্ট কিছু অভিযোগ আসছিল। এরই প্রেক্ষিতে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশের একটি বিশেষ টিম গতকাল বিকেলে এই ঝটিকা অভিযান শুরু করে।
অভিযান চলাকালীন বিভিন্ন স্পটে আড্ডারত অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় অনেক কিশোরের ব্যক্তিগত স্মার্টফোনে বিভিন্ন আসক্তিমূলক গেমস এবং অনলাইন জুয়ার (বেটিং) নিষিদ্ধ সাইটের সন্ধান মেলে। তাৎক্ষণিকভাবে ডিজিটাল নিরাপত্তা ও কিশোর অপরাধের ঝুঁকি এড়াতে তাদের মোবাইল ফোনগুলো জব্দ করে থানায় নিয়ে আসে পুলিশ।
এ বিষয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন সাধারণ অভিভাবক ও সমাজের প্রতি গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে একটি জরুরি বার্তা দিয়েছেন। তিনি বলেন, “সন্তানের হাতে স্মার্টফোন দেওয়ার আগে সচেতন হোন, তাদের কর্মকাণ্ডের ওপর কঠোর নজরদারি করুন। অনলাইন জুয়া ও ক্ষতিকর গেমস থেকে সন্তানকে দূরে রাখুন। সচেতন পরিবারই নিরাপদ ভবিষ্যতের ভিত্তি।”
একজন সচেতন অভিভাবক হিসেবে ওসির পক্ষ থেকে সমাজে নিম্নোক্ত পরামর্শসমূহ বাস্তবায়নের অনুরোধ করা হয়েছে:
- নিয়মিত নজরদারি: সন্তানদের মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর নিয়মিত কড়া নজরদারি করতে হবে। তারা কোন অ্যাপ ব্যবহার করছে এবং কার সঙ্গে যোগাযোগ করছে তা প্রতিদিন খেয়াল রাখুন।
- ক্ষতিকর দিক বুঝিয়ে বলা: অনলাইন গেমস, বেটিং ও জুয়ার মারাত্মক ক্ষতিকর দিক সম্পর্কে সন্তানদের বন্ধুসুলভ আচরণে বুঝিয়ে বলতে হবে।
- স্মার্টফোন সীমিত করা: প্রয়োজন ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্ক সন্তানদের ব্যক্তিগত স্মার্টফোন দেওয়া থেকে বিরত থাকুন এবং তাদের স্ক্রিন টাইম সীমিত রাখুন।
- সৃজনশীল কাজে উৎসাহ: সন্তানদের কেবল ভার্চুয়াল জগতে বন্দি না রেখে মাঠের খেলাধুলা, বই পড়া ও বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে বেশি বেশি উৎসাহিত করুন।
- প্রশাসনকে অবহিতকরণ: সন্তানদের কোনো সন্দেহজনক অনলাইন কার্যক্রম বা আর্থিক অসঙ্গতি চোখে পড়লে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও যোগ করেন, আজকের সামান্য অসচেতনতা আগামী দিনের বড় অপরাধের বা আত্মঘাতী ক্ষতির কারণ হতে পারে। কিশোর অপরাধ মুক্ত, নিরাপদ ও সুন্দর পূর্বধলা গড়তে পুলিশের এই সামাজিক ও আইনি সচেতনতামূলক অভিযান নিয়মিত অব্যাহত থাকবে।