নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় পিতৃত্বের পরিচয় কলঙ্কিত করে আপন ১৬ বছর বয়সী কিশোরী মেয়েকে ধর্ষণের অভিযোগে পাষণ্ড পিতা শফিকুল ইসলামকে (৪৮) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। কিশোরী মেয়েটি বর্তমানে ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা বলে জানা গেছে। আজ বুধবার (১৩ মে) বিকেল সাড়ে ৫টায় তথ্য প্রযুক্তির সহায়তায় খলিশাপুর ইউনিয়নের গরুয়াকান্দা এলাকা থেকে ঘাতক পিতাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী কিশোরী (১৬) আগে ঢাকায় একটি বাসায় কাজ করতো। প্রায় ৬ মাস আগে সে বিশকাকুনিয়া ইউনিয়নের ধলা যাত্রাবাড়ীস্থ আশ্রায়ন প্রকল্পে নিজ বাড়িতে ফিরে আসে। বাড়িতে আসার দুই-তিন দিন পর থেকেই তার বাবা শফিকুল ইসলাম তাকে ভয়ভীতি দেখিয়ে নিয়মিত ধর্ষণ করতে থাকে। একপর্যায়ে কিশোরীটি অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে।
গত দুই মাস আগে তাকে ময়মনসিংহের একটি বাসায় কাজে পাঠানো হলে সেখানে তার গর্ভাবস্থার বিষয়টি ধরা পড়ে। এরপর পাষণ্ড পিতা তাকে বাড়িতে ফিরিয়ে এনে বিষয়টি গোপন রাখার জন্য প্রাণনাশের হুমকি দেয়। তবে ভিকটিমের শারীরিক পরিবর্তন দেখে স্থানীয়দের মনে সন্দেহ জাগলে ঘটনাটি জানাজানি হয়।
সংবাদ পেয়ে আজ সকাল ১১টার দিকে পূর্বধলা থানার ওসি মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুনের নির্দেশনায় ইন্সপেক্টর (তদন্ত) হাবিবুর রহমান পিপিএম-এর নেতৃত্বে পুলিশের একটি চৌকস দল আশ্রায়ন প্রকল্পে গিয়ে ভিকটিমকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেন।
পরবর্তীতে স্থানীয় ইউপি সদস্য হাফিজ উদ্দিন ও জিয়াউর রহমানসহ ভিকটিম নিজে থানায় উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দায়ের করলে একটি নিয়মিত মামলা রুজু হয়। মামলার পর পরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে পলাতক আসামী শফিকুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, “ঘটনাটি অত্যন্ত ন্যক্কারজনক। সংবাদ পাওয়ার সাথে সাথেই আমরা ভিকটিমকে উদ্ধার করেছি এবং আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। আসামীকে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণের প্রক্রিয়া চলছে এবং ভিকটিমের ডাক্তারী পরীক্ষাসহ অন্যান্য আইনি কার্যক্রম চলমান রয়েছে।”