পূর্বধলার সংসদীয় জনপ্রতিনিধি ও জনগণের ভাগ্য

১৯৭০ এর নির্বাচন থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত বর্তমান নেত্রকোণা-৫, পূর্বধলা-১৬১ (পূর্বে ময়মনসিংহ-২১, ময়মনসিংহ-১৩) এর ১১ জন জনপ্রতিনিধি ছিলেন। (তার মধ্যে তিনজন দুই বার করে, দুইজন তিন বার বাকিরা ১ বার করে) সকলেই পূর্বধলার সর্বসাধারণকে আশার প্রতীক হিসেবে দেখাতে চেয়েছেন। তাঁরা বিভিন্ন দল থেকে নির্বাচন করে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়েছেন।

ভারত পাকিস্তান ভাগ হওয়ার পর পূর্ব পাকিস্তান ও পশ্চিম পাকিস্তান নামক একটি দেশ গঠিত হয়। দেশ পরিচালনা ও গঠনের জন্য জাতীয় নির্বাচন আবশ্যক হয়ে পরে যা ‎১৯৭০ সালে পূর্ব পাকিস্তান সাধারণ নির্বাচনের পর ১৯৭০ সালে ১৭ ডিসেম্বর প্রাদেশিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে আওয়ামীলীগ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই নির্বাচনে পূর্বধলার কৃতি ব্যক্তি “নাজমুল হুদা” ময়মনসিংহ – ২১ থেকে নৌকা প্রতীকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন। পূর্বধলাসহ দুর্গাপুর ও কলমাকান্দা নিয়ে জাতীয় পরিষদে নির্বাচিত হয়েছিলেন অ্যাডভেকেট সাদির উদ্দিন আহমেদ।

‎১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে  স্বাধীনতা অর্জন করলে জাতীয় ও প্রাদেশিক পরিষদ সমন্বয়ে গণপরিষদ গঠিত হয়। তারাই আমাদের সংবিধানে স্বাক্ষরদিয়ে পাশ করেন। পরে ১৯৭৩ সালের ৭ মার্চ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এতে ময়মনসিংহ-২১, পূর্বধলা – দূর্গাপুরের এমপি নির্বাচিত হন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে “অ্যাডভোকেট সাদির উদ্দিন আহমেদ।

‎পর্বতীতে ১৯৭৯ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ  জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি সরকার গঠন করলে ময়মনসিংহ -১৩ আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে জয় লাভ করে আর এক রাজনীতিবিদ অ্যাডভোকেট মোশাররফ হোসেন।

‎১৯৮৬ সালের  ৭মে  অনুষ্ঠিত হয় তৃতীয় জাতীয় সংসদ নির্বাচন।  এই নির্বাচনে জাতীয় পার্টি সরকার গঠন করলে নেত্রকোণা- ১, পূর্বধলা থেকে লাঙ্গল প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন “প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলাম”।

‎তৃতীয় জাতীয় নির্বাচনে জয় লাভ করে জাতীয় পার্টি চাপের মুখে ১৯৮৮ সালের ৩ মার্চ চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচন দিতে বাধ্য হয়। এতে পূনরায় এমপি হিসেবে জয় লাভ করেন “প্রিন্সিপাল সিরাজুল ইসলাম”।

‎চতুর্থ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ৩ বছরের মাথায়  ১৯৯১ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারী পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হলে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) ২য় বারের মত সরকার গঠন করে। এতে ১৬০ ময়মনসিংহের ধোবাউড়ার সঙ্গে নেত্রকোণার পূর্বধলা আসন থেকে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন অ্যডভোকেট মোশাররফ হোসেন।

‎১৯৯৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারী ৬ষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এই সময় দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১ম বারের মত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে ১৬০ ময়মনসিংহের ধোবাউড়া- নেত্রকোণার পূর্বধলা থেকে  বিরোধীয় দল বিএনপি থেকে মনোনয়ন পেয়ে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন ডাঃ মোহাম্মদ আলী।

‎১৯৯৬ সালের নির্বাচনের মাত্র ৪ মাস পর ১৯৯৬ সালের ১২ জুন সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এতে  আবারও আওয়ামী লীগ সরকার গঠন করলে  ১৬০ ধোবাউড়া – পূর্বধলা থেকে পুনরায় এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) থেকে ধানের শীষ প্রতীকে  ডাঃ মোহাম্মদ আলী।

‎৮ম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০১ সালে। এবার সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাাদী দল (বিএনপি) এই নির্বাচনে ১৬০ ধোবাউড়া – পূর্বধলা থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে নির্বাচিত হন ডা: মোহাম্মদ আলী।

‎নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০০৮ সালে পূর্বধলা ও নেত্রকোণা সদরের মৌগাতী ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত আসন নির্বাচিত হন ওয়ারেসাত হোসেন বেলাল বীরপ্রতীক। তিনি টানা দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০১৪ সাল এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন -২০১৮ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ থেকে নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করে এমপি হিসেবে বহাল থাকেন। এর-ই সাথে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০১৪ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে এমপি মনোনীত হন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল (জাসদ) থেকে “লুৎফা তাহের”। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন- ২০১৮ সালে সংরক্ষিত মহিলা আসন থেকে আওয়ামী লীগের এমপি হিসেবে মনোনীত হন “জাকিয়া পারভীন খানম”।

‎দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় ২০২৪ সালে ৭ জানুয়ারি। এই নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ টানা ৪র্থ বারের মত সরকার গঠন করে। এই নির্বাচনে নেত্রকোণা-৫, পূর্বধলা-১৬১ আসনে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন “আহমদ হোসেন”। এ সময় সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি হিসেবে মনোনীত হোন “নাদিরা বিনতে আমিন”।

‎এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ  জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)  সরকার গঠন করে। এদিকে নেত্রকোণা-৫, পূর্বধলা-১৬১ আসন থেকে  প্রথমবারের মত বাংলাদেশ জামায়েতে ইসলামি মনোনীত প্রার্থী মনোনীত হন মাসুম মুস্তফা। তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে এমপি হিসেবে নির্বাচিত হন।

‎পূর্বধলায় যতগুলো জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে তার মধ্যে বেশির ভাগ জনপ্রতিনিধি নির্বাচিত হয়েছেন বিরোধীয় দলীয়, যার কারণে হয়তো যতটুকু প্রাপ্য ততটুকু বরাদ্দ জনগণের ভাগ্যে জুটেনি। ১৯৭৯ সালের নির্বাচন থেকে পূর্বধলায় দুইটি থানা নিয়ে নির্বাচন হতো আর জনপ্রতিনিধিরা ধোবাউড়ার ভোটের আশায় সেখানেই অনেক উন্নয়নের কাজ করেছেন। যা আজও দৃশ্যমান। আর যারা সরকার দলীয় এমপি ছিলেন তাঁরা দৃশ্যমান কিছু কাজ করলেও জনগণের প্রত্যাশা পুরনের মত কাজ করতে পারেননি। এসকল কারণে আমাদের পূর্বধলা অবহেলিত হয়ে পড়ে আছে যুগের পর যুগ ধরে। এবার দেখা যাক ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী জনপ্রতিনিধি জনগণের ভাগ্যে কী বয়ে আনেন ?

জাকির আহাম্মেদ খান
শিক্ষা নবিস আইনজীবী,
ঢাকা জজ কোর্ট।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Slot online
slot gacor, slot online, slot777,
mimislot
Slot online
MIMI PORTAL
mimislot
mimislot
mimislot
Babaslot
Slot Online
slot online dental clinic mimislot Muscle Old School momwrites handshose nonlinearplot Autoplex MaggieBreads Magz Resurge Vintage Kobra Insight Tribun Warga