নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় সদ্য যোগদানকৃত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শফিকুল ইসলামের সাথে উপজেলায় কর্মরত প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের এক সুধী পরিচিতি ও মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। আজ বুধবার (৩ জুন) বিকেল ৪টায় উপজেলা পরিষদ হলরুমে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
সভার শুরুতে নবাগত ইউএনও শফিকুল ইসলাম উপস্থিত গণমাধ্যমকর্মীদের সাথে পরিচিত হন। পরে এক উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকরা উপজেলার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা, সম্ভাবনা এবং প্রশাসনিক সীমাবদ্ধতার বিষয়গুলো নতুন কর্মকর্তার সামনে বিস্তারিতভাবে তুলে ধরেন এবং সেগুলোর দ্রুত সমাধানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সভায় বস্তুনিষ্ঠ বক্তব্য ও পরামর্শ তুলে ধরেন— পূর্বধলা প্রেসক্লাবের সভাপতি মো. জায়েজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক কেবিএম নোমান শাহরিয়ার, দৈনিক আমার দেশ-এর উপজেলা প্রতিনিধি শফিকুল আলম শাহীন, নয়া দিগন্তের প্রতিনিধি ইসমাইল হোসেন খোকন, প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা, দৈনিক সংবাদের প্রতিনিধি মোহাম্মদ এমদাদুল ইসলাম, দৈনিক ইকরার প্রকাশক ও সম্পাদক মো. শফিকুজ্জামানসহ উপজেলায় কর্মরত বিভিন্ন জাতীয় ও স্থানীয় পত্রিকার সাংবাদিকবৃন্দ।
উন্মুক্ত আলোচনায় সাংবাদিকরা জনস্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ দাবি ও সমস্যার কথা ইউএনও’র নিকট পেশ করেন, যার মধ্যে অন্যতম হলো—
- পূর্বধলা পৌরসভা পুনঃস্থাপনের স্থবির হয়ে থাকা প্রস্তাব দ্রুত বাস্তবায়ন করা।
- উপজেলা সদরের নাজুক ড্রেনেজ ব্যবস্থার আমূল উন্নয়ন, স্থায়ী জলাবদ্ধতা ও তীব্র যানজট নিরসনে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।
- সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নির্ধারিত সময়ে অফিসে উপস্থিতি নিশ্চিত করে সেবার মান বৃদ্ধি করা।
- উপজেলা প্রশাসন পার্কের আধুনিকায়ন এবং বিনোদনপ্রেমীদের সুবিধার্থে ঐতিহ্যবাহী রাজধলা বিলপাড় এলাকায় অবস্থিত পার্কে যাতায়াতের জন্য টেকসই রাস্তা নির্মাণ।
- উপজেলার সামগ্রিক শিক্ষার মানোন্নয়ন, সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং এলাকায় চুরি, ইভটিজিং ও মাদকের মরণনেশা নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ।
সাংবাদিকদের উত্থাপিত প্রতিটি মতামত ও গঠনমূলক পরামর্শ অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিজের ডায়েরিতে লিপিবদ্ধ করেন ইউএনও শফিকুল ইসলাম। পরে তাঁর বক্তব্যে তিনি বলেন, “উপজেলার বিভিন্ন সমস্যা রাতারাতি পরিবর্তন করা সম্ভব নয়, তবে আমরা পরিকল্পিতভাবে ধাপে ধাপে প্রতিটি সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ গ্রহণ করব।” উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন ও জনসেবামূলক কর্মকাণ্ড বাস্তবায়নে তিনি গণমাধ্যমের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন। একই সাথে তিনি সমাজে অপরাধের মূল উৎপাটন করতে মাদকের বিরুদ্ধে প্রশাসনের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা স্পষ্টভাবে পুনর্ব্যক্ত করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৫ মার্চ পূর্বধলার সাবেক ইউএনও মো. আনিসুর রহমান খানের বদলির পর পদটি দীর্ঘ দিন শূন্য ছিল। পরবর্তীতে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান অতিরিক্ত দায়িত্বে ভারপ্রাপ্ত ইউএনও হিসেবে প্রশাসনিক কাজ চালিয়ে আসছিলেন। দীর্ঘ ৭৮ দিন উপজেলায় স্থায়ী কোনো ইউএনও না থাকায় প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডের মাঠপর্যায়ের তদারকিতে কিছুটা ধীরগতি দেখা দিয়েছিল বলে স্থানীয়দের মনে দীর্ঘদিনের ক্ষোভ ও অভিযোগ ছিল। অবশেষে গতকাল মঙ্গলবার (২ জুন) ৩৭তম বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের কর্মকর্তা শফিকুল ইসলাম স্থায়ী ইউএনও হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্বভার গ্রহণ করায় সেই প্রশাসনিক শূন্যতার অবসান ঘটেছে। তাঁর এই যোগদানের মধ্য দিয়ে পূর্বধলার প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন গতি সঞ্চার হবে এবং সরকারি সেবার মান আরও উন্নত হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন বাসিন্দারা।