নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা মাছুম মোস্তফার মরহুমা মাতাকে জড়িয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দেওয়া একটি আপত্তিকর ফেসবুক পোস্টকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট বিতর্কের ঘঠনা ঘটেছে। উক্ত পোস্টের জন্য দুঃখপ্রকাশ ও ভুল স্বীকার করে নিজের ফেসবুক আইডি থেকে দেশবাসী ও পূর্বধলাবাসীর কাছে আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন পূর্বধলা উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক আবু বকর রানা।
এর আগে, ‘মাছুম মোস্তফা (এমপি) মিডিয়া সেল’ থেকে এই পোস্টের তীব্র নিন্দা জানিয়ে অভিযুক্ত যুবদল নেতাকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাওয়ার আলটিমেটাম দেওয়া হয়েছিল।
আজ বুধবার (০৩ জুন) যুবদল নেতা আবু বকর রানা তাঁর ব্যক্তিগত ‘Abu Bakar Rana’ ফেসবুক আইডি থেকে ‘প্রিয় পূর্বধলাবাসী’ সম্বোধন করে একটি আনুষ্ঠানিক পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি লেখেন, “আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, গতকাল আমার ব্যক্তিগত ব্যবহৃত Abu Bakar Rana নামীও এই ফেসবুক আইডি থেকে নেত্রকোনা-৫ পূর্বধলা আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত এমপি জনাব মাছুম মোস্তফা সাহেবের মরহুম মাতাকে নিয়ে একটি নেগেটিভ পোস্ট করা হয়, যা পূর্বধলা উপজেলা জামায়াতসহ সাধারণ মানুষের দৃষ্টিগোচর হয়।”
আইডি হ্যাক বা অন্যের অনাকাঙ্ক্ষিত অনুপ্রবেশের ইঙ্গিত দিয়ে রানা আরও লেখেন, “প্রিয় ভাই বন্ধুগণ— গতকাল হঠাৎ আমার ফেসবুক আইডিতে এমন বিব্রতকর একটা পোস্ট আমার অজান্তে কে বা কারা করেছিল তা আমার জানা ছিল না। যখন লেখাটি আমার নজরে আসে তাৎক্ষণিক আমি পোস্টটি ডিলিট করে দেই।”
পোস্টটির মাধ্যমে নিজের দুঃখ প্রকাশ করে এই যুবদল নেতা বলেন, “এই অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্টের জন্য আমি লজ্জিত এবং দুঃখিত। এই অনাকাঙ্ক্ষিত পোস্ট পড়ে কেউ কষ্ট পেয়ে থাকলে ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন। আমি সকলের কাছে আন্তরিকভাবে নিঃশর্ত ক্ষমা প্রার্থী।” পরিশেষে তিনি সকলের সুস্বাস্থ্য ও নেক হায়াত কামনা করে নিজের জন্য দোয়া চেয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার ‘Abu Bakar Rana’ আইডি থেকে একটি নেতিবাচক পোস্ট করা হলে সেটিকে সংসদ সদস্যের মরহুমা মায়ের প্রতি কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিত দাবি করে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে স্থানীয় জামায়াত ও মাছুম মোস্তফা মিডিয়া সেল। আজ দুপুরে মিডিয়া সেলের চিফ অফ টিম মুহা. আবু হুজাইফার স্বাক্ষরে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে আইনি ব্যবস্থার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।
তবে আলটিমেটামের কয়েক ঘণ্টার মাঝেই যুবদল নেতা আবু বকর রানা নিজের অজান্তে পোস্টটি হওয়ার কথা জানিয়ে প্রকাশ্যে ও নিঃশর্তভাবে ক্ষমা চাওয়ায় স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে তৈরি হওয়া তীব্র উত্তেজনা ও চাপা ক্ষোভের অবসান ঘটেছে। এই দায়িত্বশীল আচরণের পর এলাকার রাজনৈতিক গণ্ডিতে স্বস্তি ফিরে এসেছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।