পূর্বধলাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবি ও অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার হিরণপুর রেলস্টেশনে পুনরায় আনুষ্ঠানিকভাবে চালু হয়েছে “মহুয়া কমিউটার” ট্রেনের যাত্রাবিরতি (স্টপেজ)। আজ সোমবার (২৫ মে) থেকে ট্রেনটির যাত্রাবিরতি পুনরায় কার্যকর হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মাঝে উৎসবমুখর পরিবেশ ও স্বস্তির সুবাতাস বইছে।
রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকার কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে মোহনগঞ্জের উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা আন্তঃনগর ‘মহুয়া কমিউটার’ ট্রেনটি নানাবিধ জটিলতায় প্রায় এক বছর ধরে হিরণপুর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেওয়া বন্ধ রেখেছিল। আজ সোমবার দুপুরে ট্রেনটি পুনরায় হিরণপুর স্টেশনে এসে থামলে সেখানে অপেক্ষারত শত শত মানুষ উল্লাসে ফেটে পড়েন।
এই ঐতিহাসিক মুহূর্তকে স্মরণীয় করে রাখতে হিরণপুর রেলস্টেশন চত্বরে এক বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে পুনরায় যাত্রাবিরতির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা।
সফল উদ্বোধন শেষে উপস্থিত সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা অত্যন্ত আনন্দ প্রকাশ করে বলেন, “বিগত জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় আমি হিরণপুরবাসীকে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, এই স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ আমি পুনরায় ফিরিয়ে আনব। আজ মহান আল্লাহর রহমতে আমার সেই নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির সফল বাস্তবায়ন হলো। আমি হিরণপুর তথা পূর্বধলার অবহেলিত মানুষের যাতায়াত সুবিধা নিশ্চিত করতে সবসময় প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। হিরণপুরের মানুষের ঢাকা ও ময়মনসিংহ যাতায়াত আরও সহজ করতে ভবিষ্যতে এই স্টেশনে আরও কয়েকটি ট্রেনের স্টপেজ চালুর বিষয়ে রেল মন্ত্রণালয়ের সাথে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে।”
হিরণপুর এলাকার স্থানীয় বাসিন্দা, ব্যবসায়ী ও শিক্ষার্থীরা জানান, দীর্ঘ এক বছর এই স্টেশনে ট্রেনের স্টপেজ বন্ধ থাকায় এলাকার কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, নিয়মিত চাকরিজীবী এবং রাজধানী বা বিভাগীয় শহরে যাতায়াতকারী মুমূর্ষু রোগীদের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছিল। বাধ্য হয়ে বিকল্প ও ঝুঁকিপূর্ণ সড়কে অতিরিক্ত সময় ও কয়েক গুণ বেশি খরচ দিয়ে যাতায়াত করতে হতো।
আজ থেকে পুনরায় ‘মহুয়া কমিউটার’ ট্রেনের স্টপেজ চালু হওয়ায় এলাকার অর্থনৈতিক ও সামাজিক যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক ইতিবাচক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে। এই প্রাণের দাবি বাস্তবায়নের জন্য হিরণপুরবাসী সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা এবং রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন।