নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে স্বাস্থ্যসেবার মান বাড়াতে যুক্ত হয়েছেন নতুন ৮ জন চিকিৎসক। গত ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে তাঁরা আনুষ্ঠানিকভাবে কর্মস্থলে যোগদান করেছেন। দীর্ঘদিনের চিকিৎসক সংকটে থাকা এই জনপদের মানুষের জন্য এটি একটি বড় সুসংবাদ।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, নতুন যোগদানকারী ৮ জন চিকিৎসকের মধ্যে রয়েছেন: ডাঃ মারিশা তাজনিন (মেডিকেল অফিসার), ডাঃ শেখ ইশা (ডেন্টাল সার্জন), এবং সহকারী সার্জন হিসেবে ডাঃ মোঃ হাদিউল ইসলাম, ডাঃ তানজিনা আক্তার এনি, ডাঃ নাহিদ আজাদ জয়, ডাঃ মোঃ দৌলত আহমেদ, ডাঃ দীপক্ষর দাস ও ডাঃ শারাফ তাবাসসুম উর্মী।
নতুন ৮ জন যুক্ত হলেও হাসপাতালের সামগ্রিক জনবল চিত্র এখনো উদ্বেগজনক। হাসপাতালে মোট ৪১ জন চিকিৎসকের পদের বিপরীতে বর্তমানে কাগজে-কলমে ২০ জন কর্মরত আছেন। তবে এর মধ্যে ডাঃ মাহফুজ উল্লাহ কবির নামের একজন চিকিৎসক ২০১৩ সালে যোগদানের পর থেকে দীর্ঘ ১৩ বছর ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত রয়েছেন। ফলে বাস্তবে ১৯ জন চিকিৎসক দিয়ে চলছে পুরো উপজেলার স্বাস্থ্যসেবা।
চিকিৎসক ছাড়াও অন্যান্য পদের অবস্থা আরও শোচনীয়। ৫ জন পরিচ্ছন্নতাকর্মীর স্থলে আছেন মাত্র ২ জন। ৪ জন অফিস সহায়কের বিপরীতে আছেন মাত্র ১ জন। সবচেয়ে আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, ২ জন নিরাপত্তাকর্মী থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে একজনও নেই, যা হাসপাতালের নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তুলেছে।
উপজেলার চারটি উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র (জারিয়া, আলমপুর, আগিয়া ও শ্যামগঞ্জ) কার্যত অচল হয়ে আছে। এর মধ্যে আলমপুর ও আগিয়া উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্র দুটির ভবন ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। কোনো উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রেই বর্তমানে কোনো চিকিৎসক নেই, যার ফলে তৃণমূলের রোগীরা প্রাথমিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মুহাম্মদ মাহমুদুল হাসান মামুন জানান, “নতুন ৮ জন দক্ষ চিকিৎসক যুক্ত হওয়ায় আমরা আশা করছি সেবার মান পূর্বের তুলনায় অনেক বৃদ্ধি পাবে। জনবল সংকটের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আমরা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও সাধারণ মানুষকে সর্বোচ্চ সেবা দেওয়ার চেষ্টা করছি।”