পূর্বধলায় রাজাকারের তালিকায় তিন মুক্তিযোদ্ধার নাম!

দর্পন সংবাদদাতা: নেত্রকোনার পূর্বধলায় তিন ভাতাপ্রাপ্ত গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধার নাম রাজাকারের তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়ে বলে অভিযোগ উঠছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নথি পর্যালোচনা করে ১০ হাজার ৭৮৯ জন রাজাকারের তালিকা প্রকাশ করেছে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়। তারা হলেন সদ্য প্রকাশিত তালিকায় ১১৮ পৃষ্ঠার কলাম ২ (১) এ উপজেলার লাঙ্গলজোড়া গ্রামের আব্দুল মজিদ, পিতা সমর আলী, ১১৮ পৃষ্ঠার কলাম ৪ (১) এ উপজেলার লিনার গ্রামের জোয়াদ আলী, পিতা এয়ার হোসেন ও ১১৮ পৃষ্ঠার কলাম ৪ (৩) এ একই গ্রামের হান্নান, পিতা ইঞ্জিল।
তালিকাভূক্ত মুক্তিযোদ্ধাদের প্রকৃত তথ্যানুযায়ী পূর্বধলা উপজেলার লাঙ্গলজোড়া গ্রামের মো. মজিবর রহমান ওরফে আব্দুল মজিদ, পিতা সমর আলী, মুক্তিবার্তা নং ০১১৬০২০২৪৫ ভারতীয় তালিকা নং ১৪১৬২, উপজেলার লাউয়ারী গ্রামের জোয়াদ মিয়া, পিতা মৃত এয়ার হোসেন, মুক্তিবার্তা নং ০১১৬০২০২৩৯ ভারতীয় তালিকা নং ১৩৯৬০ ও একই গ্রামের আব্দুল হান্নান আকন্দ, পিতা ইঞ্জিল আকন্দ, মুক্তিবার্তা নং ০১১৬০২০২৩৮ ভারতীয় তালিকা নং ১৩৯৯৭। এখানে উল্লেখ্য যে, প্রিন্টের ক্ষেত্রে মো. মজিবর রহমানের ক্ষেত্রে আব্দুল মজিদ, জোয়াদ মিয়ার স্থলে জোয়াদ আলী ও আব্দুল হান্নান আকন্দের স্থলে হান্নান হলেও তারা একই ব্যক্তি। এই নামে উক্ত গ্রামের অন্য কোন ব্যক্তি নেই। তাছাড়া জোয়াদ আলী ও হান্নানের গ্রাম লিনার উল্লেখ থাকলেও বাস্তবে উপজেলার লিনার নামে কোন গ্রাম নেই।
যুদ্ধকালীন কমান্ডার মো. সিরাজুল ইসলাম তালুকদার বলেন, “তালিকা ভূক্ত তিন ব্যক্তিই প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা। তারা আমার সাথে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাসে বঙ্গবন্ধুর ডাকে স্বাধীনতা যুদ্ধে অংশগ্রহনের জন্য ভারতে চলে যান। সেখান থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে বি-৬ কোম্পানীর ২ নং প্লাটুনে (ফুলপুর, পূর্বধলা ও নেত্রকোনার পশ্চিমাংশ) স্বশস্ত্র যুদ্ধে অংশগ্রহন করেন। মুক্তিযোদ্ধা মজিবর রহমান বেঁচে থাকলেও জোয়াদ আলী ও হান্নান আকন্দ জীবিত নেই।”


প্রাক্তন কমান্ডার আলকাছ উদ্দিন ও মো. নিজাম উদ্দিন বলেন, “মুক্তিযোদ্ধা মন্ত্রণালয়ের আওতায় পূর্বধলার এই তিন মুক্তিযোদ্ধা নিয়মিত ভাতাপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধা। তাদের নাম রাজাকারের তালিকা দেখে তাদের স্বজন ও স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়, রাজাকারের তালিকা থেকে তাদের নাম বাদ দিয়ে জরুরী সংশোধনের জোড় দাবি জানাই।”
উপজেলা নির্বাহী অফিসার উম্মে কুলসুম বলেন, পূর্বধলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের পক্ষ থেকে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় সচিব বরবর একটি স্মারকলিপি পেয়েছি। দ্রুত নাম সংশোধনের জন্য নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মহোদয়কে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Slot online
slot gacor, slot online, slot777,
mimislot
Slot online
MIMI PORTAL
mimislot
mimislot
mimislot
Babaslot
Slot Online
slot online dental clinic mimislot Muscle Old School momwrites handshose nonlinearplot Autoplex MaggieBreads Magz Resurge Vintage Kobra Insight Tribun Warga