‘নতুন প্রাণে নতুন সম্ভাবনা, দীপ্ত হোক আগামীর ঠিকানা’— এই দীপ্ত প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেল কলেজ ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সুযোগ পাওয়া কৃতী শিক্ষার্থীদের সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। আজ রবিবার (৩১ মে) সকালে উপজেলা সদরের ‘ইষ্টিকুটুম রেস্টুরেন্ট’ মিলনায়তনে ‘স্কলার্স ফোরাম পূর্বধলা’র উদ্যোগে এই ‘অদম্য মেধাবী সংবর্ধনা-২০২৬’ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের (মমেক) সহযোগী অধ্যাপক ডা. দেলোয়ার জাহান খান। তিনি কৃতী শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানিয়ে তাঁর বক্তব্যে বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই গৌরবোজ্জ্বল সাফল্য শুধু তাদের ব্যক্তিগত অর্জন নয়; এটি তাদের পরিবার, সমাজ এবং পুরো পূর্বধলা এলাকার জন্য অত্যন্ত গর্বের বিষয়। তবে কেবল উচ্চশিক্ষা অর্জনই যথেষ্ট নয়, এর পাশাপাশি নৈতিকতা, মানবিক গুণাবলি ও ধর্মীয় মূল্যবোধ ধারণ করে একেকজন আদর্শ মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে হবে। জ্ঞান অর্জনের সঙ্গে সঙ্গে যদি সুচরিত্র ও মূল্যবোধের চর্চা করা যায়, তবেই শিক্ষার্থীরা আগামী দিনে দেশ ও জাতির কল্যাণে সত্যিকারের ভূমিকা রাখতে সক্ষম হবে।”
স্কলার্স ফোরামের পরিচালক ওমর ফারুকের চমৎকার সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন— বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কৃষিবিদ জহিরুল ইসলাম, খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) শিক্ষার্থী জিহাদ তালুকদার, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী আলী আসাদ, নেত্রকোনা আধুনিক হাসপাতালের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাঈম ইসলাম এবং সবুজ সেবা যুব ফাউন্ডেশনের সভাপতি উজ্জ্বল মিয়া।
আয়োজক কমিটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, পূর্বধলা উপজেলা থেকে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষে দেশের বিভিন্ন নামী-দামী উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (মেডিকেল, বুয়েট, ঢাবিসহ বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ও গুচ্ছভুক্ত প্রকৌশল কলেজ) চান্স পাওয়া মোট ৫০ জন শিক্ষার্থীকে এই অদম্য সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়েছে।
সংবর্ধনা ও সম্মাননা স্মারক হাতে পেয়ে নিজেদের অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে কয়েকজন কৃতী শিক্ষার্থী জানান, “পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পাওয়ার পর নিজ এলাকার এমন একটি চমৎকার ও গোছানো আয়োজন আমাদের ভবিষ্যৎ পড়াশোনার গতিকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে এবং অনুপ্রাণিত করেছে। এই সম্মান আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিল।” তারা ভবিষ্যতেও মেধাবী শিক্ষার্থীদের উৎসাহিত করতে এই ধরণের মহতী উদ্যোগ অব্যাহত রাখার জন্য স্কলার্স ফোরামের প্রতি আহ্বান জানান।