নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় কোরবানির পশুর হাটের ইজারাকে কেন্দ্র করে এক যুবদল নেতার ওপর বর্বরোচিত হামলার ঘটনায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এই ঘটনায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর এবং এক ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যানসহ ৩৩ জনের নাম উল্লেখ করে পূর্বধলা থানায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। মামলায় অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
গত সোমবার (২৫ মে) দিবাগত রাতে পূর্বধলা থানায় মামলাটি দায়ের করেন হামলার শিকার উপজেলার আগিয়া ইউনিয়নের জটিয়াবর গ্রামের বাসিন্দা ও ৭ নম্বর আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সহ-সভাপতি মো. উমর শরীফ (৩৪)।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, গত ২০ মে বিকেলে পূর্বধলা উপজেলা পরিষদে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা (নিলাম) কার্যক্রম শেষে মোটরসাইকেলে করে নিজ ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ফিরছিলেন যুবদল নেতা উমর শরীফ। বিকেল ৩টার দিকে আগিয়া বাজার এলাকায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় ও বিদেশি অস্ত্রে সজ্জিত একদল লোক তাঁর পথরোধ করে।
এজাহারে অভিযোগ করা হয়, হামলাকারীদের হাতে বাঁশের লাঠি, লোহার রড, পাইপ, দা, রামদা, কুড়াল, ইটপাটকেলসহ ককটেল ও পেট্রোল বোমা ছিল। এ সময় পুরো এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করতে ঘটনাস্থলে কয়েকটি ককটেলের বিস্ফোরণও ঘটানো হয়।
অভিযোগে আরও বলা হয়, হামলার সময় উমর শরীফের মাথায় রামদা দিয়ে কোপ দেওয়ার চেষ্টা করা হলে তিনি হাত দিয়ে ঠেকাতে যান। এতে তাঁর বাম হাতের কবজির নিচে গুরুতর ও গভীর জখম হয়। পরে লোহার রড দিয়ে তাঁর মাথায় উপর্যুপরি আঘাত করা হয়। হামলায় আহত হয়ে মাটিতে পড়ে গেলে তাঁকে এলোপাতাড়ি মারধর করে সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে ব্যবসায়িক ২ লাখ ১০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাঁর ব্যবহৃত টিভিএস স্ট্রাইকার মোটরসাইকেলটিতে পেট্রোল বোমা ছুড়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পুলিশ ও স্থানীয় লোকজন গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন।
দায়েরকৃত এই মামলায় উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমীর মো. জয়নাল আবেদীনকে প্রধান আসামি করা হয়েছে। এছাড়া ৫ নম্বর ধলামূলগাঁও ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজুয়ানুর রহমান রনি এবং সদর ইউনিয়ন জামায়াতের সাবেক সভাপতি তাজুল ইসলাম বাবুলসহ মোট ৩৩ জনকে নামীয় আসামি করা হয়েছে।
তবে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করে প্রধান আসামি ও উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির মো. জয়নাল আবেদীন বলেন, “এটি সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, সাজানো ও মিথ্যা মামলা। আমাকে সহ যাদের আসামি করা হয়েছে, তাদের কেউই এই অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত নন।”
তিনি উল্টো অভিযোগ করে বলেন, “ওই দিন সুপরিকল্পিতভাবে আমাদের জামায়াতের অনেক নেতাকর্মীকেও মারধর করে গুরুতর আহত করা হয়েছে, যারা এখনও হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। মামলায় যে মোটরসাইকেলটি পেট্রোল বোমা দিয়ে পোড়ানোর কথা বলা হয়েছে, সেটি আসলে আমাদের জামায়াত কর্মী মাওলানা সালেহ আহমেদ সোহাগের। প্রকৃত ঘটনা আড়াল করতেই এই মিথ্যা মামলা সাজানো হয়েছে।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, “যুবদল নেতার ওপর হামলার ঘটনায় একটি লিখিত এজাহার দায়ের করা হয়েছে এবং সেটি নিয়মিত মামলা হিসেবে রুজু করা হয়েছে। বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”