নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় পশুর হাটের ইজারা নিয়ে সংঘর্ষের জেরে আগিয়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি সাহরিয়ার ওমর শরীফকে মারধর ও তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়ার প্রতিবাদে তীব্র ক্ষোভ, বিক্ষোভ মিছিল এবং সমাবেশ করেছে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। আজ বুধবার (২০ মে) সন্ধ্যায় পূর্বধলা বাজারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি পালিত হয়।
সন্ধ্যায় বাজারের খাদ্য গুদাম রোডস্থ বিএনপির দলীয় কার্যালয় থেকে একটি বিশাল বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলটি পৌর শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ শেষে স্টেশন মোড়ে গিয়ে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন— পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, যুগ্ম আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান ফকির, যুগ্ম আহ্বায়ক সায়েদ আল মামুন শহীদ, রুহুল আমিন ফকির, সেলিম উদ্দিন এবং সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ইশতিয়াক আহমেদ বাবু। এ সময় উপজেলা যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের বিভিন্ন পর্যায়ের বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, “পরিকল্পিতভাবে যুবদল নেতা সাহরিয়ার ওমর শরীফের ওপর বর্বরোচিত হামলা চালানো হয়েছে এবং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তাঁর মোটরসাইকেলে আগুন দেওয়া হয়েছে।” বক্তারা প্রশাসনের উদ্দেশ্যে হুশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে হামলার ঘটনায় জড়িত চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, অন্যথায় পূর্বধলায় আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন শরীফকে দেখে এসে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক বাবুল আলম তালুকদার সাংবাদিকদের বলেন, “আগিয়া বাজারের কিছু চিহ্নিত ব্যক্তি, যারা আগে সরাসরি আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিল এবং বর্তমানে রাতারাতি খোলস বদলে জামায়াতে ইসলামীতে যোগ দিয়েছে, তারাই বিনা উস্কানিতে শরীফের ওপর এই হামলা চালিয়েছে। হামলাকারীরা শুধু শরীফকে আহত করেই ক্ষান্ত হয়নি, তাঁর মোটরসাইকেলটিতেও আগুন ধরিয়ে দেয়।”
তবে এ বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় কোনো নেতার তাৎক্ষণিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “আগিয়া বাজারের ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। দুপুরের উপজেলা পরিষদ চত্বরের ঘটনার সঙ্গে বিকেলের এই ঘটনার কোনো যোগসূত্র বা সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”