নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের কান্দাপাড়া গ্রামসহ পার্শ্ববর্তী এলাকার কৃষকদের চোখে এখন অন্ধকার। সামান্য বৃষ্টিতেই তলিয়ে গেছে তাদের হাড়ভাঙা খাটুনির ফসল। উপজেলার উদ্ধা বিলসহ প্রায় ১০টি বিলের কয়েকশ একর জমির বোরো ধান এখন পানির নিচে। এই সংকট থেকে মুক্তি পেতে স্থানীয় নদ-নদী ও খাল পুনরায় খননের জন্য সরকারের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, কান্দাপাড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ ফসলের মাঠ এখন জলমগ্ন। স্থানীয় কৃষকদের ভাষ্যমতে, উদ্ধা বিলে প্রায় ১০০ একর জমির মধ্যে ৩০-৪০ একর ইতিমধ্যেই তলিয়ে গেছে। পার্শ্ববর্তী আরও ১০টি বিলের অবস্থাও একই রকম। কৃষকরা জানান, বৃষ্টির পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক পথ বা খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় এই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে।
ভিডিওতে দেখা যায়, স্থানীয় সাবেক মেম্বারসহ বেশ কয়েকজন কৃষক তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরছেন। জনৈক কৃষক বলেন, “আমাদের মূল আয়ের উৎস কৃষি। কিন্তু নদী ও খালগুলো ভরাট হয়ে যাওয়ায় সামান্য বৃষ্টিতেই ধান তলিয়ে যাচ্ছে। আমরা সরকারের কাছে খাল খননের দাবি জানাই, যাতে আমরা কৃষকরা বাঁচতে পারি।”
কান্দাপাড়া গ্রামের বাসিন্দা মো. সাদিকুর রহমান বলেন, “আমার কয়েক একর জমি এই বিলে আছে। বৃষ্টির পানিতে সব ধান তলিয়ে গেছে। যদি সরকার দ্রুত এই খাল বা নদী খননের উদ্যোগ নেয়, তবেই আমাদের ভবিষ্যৎ রক্ষা পাবে।”
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘ বছর ধরে খাল বা নদী খনন না হওয়ায় পলি জমে নদীর তলদেশ ভরাট হয়ে গেছে। এর ফলে পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং কৃষিজমি প্লাবিত হচ্ছে। তারা আরও জানান, এক বছর আগে জারিয়া অঞ্চল থেকে প্রায় সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার এলাকা খনন করা হয়েছিল, কিন্তু বাকি অংশ খনন না হওয়ায় তারা এর সুফল পাচ্ছেন না।
কৃষকদের দাবি, অনতিবিলম্বে সরকারি উদ্যোগে এই ভরাট হয়ে যাওয়া নদী ও খালগুলো খনন করা হোক। এতে শুধু কান্দাপাড়া নয়, বরং কয়েক হাজার কৃষক উপকৃত হবেন এবং তাদের একমাত্র সোনালী ফসল ঘরে তুলতে পারবেন।