নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় লোকালয়ে একটি পাগলা শিয়ালের অতর্কিত হামলায় নারী ও শিশুসহ অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আজ মঙ্গলবার(২৬ মে) দুপুর ১টা থেকে ৩টার মধ্যে উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের বাদেপুটিকা (বাগপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। আহতদের দ্রুত উদ্ধার করে পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা ও জলাতঙ্কের ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে।
এলাকাবাসী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার দুপুরে বাদেপুটিকা (বাগপাড়া) গ্রামের সুজন মিয়ার ৯ বছর বয়সী শিশু পুত্র জুনাইদ নিজেদের বাড়ির বারান্দায় পায়চারি করছিল। এ সময় জঙ্গল থেকে একটি পাগলা শিয়াল তীব্র গতিতে দৌড়ে এসে হঠাৎ জুনাইদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে এবং কামড়ে তাকে গুরুতর জখম করে। জুনাইদের চিৎকার শুনে পরিবারের লোকজন এগিয়ে এলে শিয়ালটি পাশের বাড়িতে ছুটে যায়।
এরপর দুপুর ১টা থেকে ৪টা পর্যন্ত প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী গ্রামের এ বাড়ি ও বাড়ি ঘুরে নারী ও শিশুসহ আরও ৯ জনকে কামড়ে রক্তাক্ত করে শিয়ালটি। আকস্মিক এই শিয়ালের তাণ্ডবে পুরো বাদেপুটিকা গ্রাম জুড়ে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। গ্রামের মানুষ লাঠিসোঁটা ছাড়া ঘর থেকে বের হওয়া বন্ধ করে দেন।
শিয়ালের কামড়ে আহতরা হলেন— জুনাইদ (৯), সুফিয়া (৫০), নজরুল (৪২), অনিক (৭), নাজমুল (৫), ফাতেমা (৮০), আয়েশা (৬০), আছিয়া (৭০), আব্দুল কুদ্দুছ (৫০) ও নজরুল (৪০)।
আহতদের দ্রুত পূর্বধলা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগে নিয়ে আসা হলে চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিক চিকিৎসা শুরু করেন। জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মোহাম্মদ সোহেল রানা জানান, “আহতদের মধ্যে ৮ জনকে হাসপাতালে রেখে জলাতঙ্ক প্রতিরোধে প্রাথমিক চিকিৎসা ও ভ্যাকসিন দেওয়া হয়েছে। তবে কামড়ের গভীরতা বেশি হওয়ায় এবং অবস্থা গুরুতর হওয়ায় বাকি ২ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (মমেক) প্রেরণ করা হয়েছে।”
এদিকে শিয়ালের কামড়ে একের পর এক মানুষ আহত হওয়ার ঘটনায় বিকেলে গ্রামের শত শত মানুষ লাঠিসোঁটা ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে একজোট হয়ে শিয়ালটিকে খুঁজতে বের হন। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পর অবশেষে সন্ধ্যার দিকে বাদেপুটিকা গ্রাম সংলগ্ন একটি জোপঝাড় থেকে পাগলা শিয়ালটিকে ঘেরাও করে পিটিয়ে মেরে ফেলে ক্ষুব্ধ জনতা। শিয়ালটি মারা যাওয়ার পর এলাকায় স্বস্তি ফিরে এলেও আহতদের পরিবারে চলছে উদ্বেগ।