নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় হোগলা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকনকে মোবাইল ফোনে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অনৈতিকভাবে ৪৫০টি ভিজিএফ কার্ডের চাল দাবি করে এই হুমকি দেওয়া হয় বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি আফতাব উদ্দীন সরকার সোহাগের বিরুদ্ধে পূর্বধলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী চেয়ারম্যান।
আজ মঙ্গলবার (২৬ মে) সকালে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন চেয়ারম্যানের জিডি করার বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
হোগলা ইউপি চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দ খোকন জানান, গত রবিবার (২৪ মে) সকালে অভিযুক্ত ছাত্রদল নেতা আফতাব উদ্দিন সরকার সোহাগ অনৈতিকভাবে তাঁর কাছে ৪৫০টি ভিজিএফ (ভিজিটেবল গ্রোথ ফান্ড) কার্ডের চাল দাবি করেন। নিয়মবহির্ভূতভাবে এই চাল দিতে অস্বীকৃতি জানালে সোহাগ চেয়ারম্যানকে প্রথম দফায় অপমান করেন।
চেয়ারম্যান আরও অভিযোগ করেন, “ঐদিন রাত আনুমানিক সাড়ে ১১টার দিকে কেন ভিজিএফের চাল দেওয়া হলো না, এই অজুহাতে সোহাগ আবারও আমার মোবাইল ফোনে কল করে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ শুরু করে। আমি তাকে বারবার বোঝানোর চেষ্টা করেছি যে— উপজেলা সমন্বয় কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ট্যাগ অফিসারের উপস্থিতিতে নিয়মতান্ত্রিকভাবে এই চাল বিতরণ করা হয়, তাই এককভাবে এভাবে চাল দেওয়া সম্ভব নয়। কিন্তু সোহাগ তা মানতে নারাজ হয়ে আমাকে প্রাণনাশের হুমকি দেয়।” পরবর্তীতে মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড সংরক্ষণ করে সোমবার (২৫ মে) রাতে পূর্বধলা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) দায়ের করেন চেয়ারম্যান।
অভিযুক্ত আফতাব উদ্দিন সরকার সোহাগ পূর্বধলা উপজেলার হোগলা ইউনিয়নের কালিহরকান্দা গ্রামের মো. আশরাফ উদ্দিন সরকারের ছেলে। সে জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি ছিলেন।
মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে সমস্ত অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন দাবি করে সোহাগ বলেন, “চেয়ারম্যান সিরাজুল ইসলাম আকন্দের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে আমি প্রতিবাদ করায় তিনি আমার বিরুদ্ধে এই নোংরা ষড়যন্ত্র করছেন। আমার ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে তাঁকে কোনো ফোন দেওয়া হয়নি এবং তাঁর সাথে কোনো কথাও হয়নি এআই (ai) দিয়ে কল রেকর্ড তৈরি করেছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়েছেন, আপনারা প্রশাসন দিয়ে তদন্ত করে খোঁজ নিয়ে দেখুন। রাজনৈতিকভাবে আমাকে হেয় প্রতিপন্ন করার জন্য এই মিথ্যা জিডি করা হয়েছে। আমি এই ঘটনার বিরুদ্ধে উল্টো মানহানি মামলা করার প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
পূর্বধলা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, “ইউপি চেয়ারম্যান একটি জিডি দায়ের করেছেন। মোবাইল ফোনের কল রেকর্ড ও সাধারণ ডায়েরির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে তদন্ত করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”