নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় আসন্ন ঈদুল আজহার অস্থায়ী পশুর হাটগুলোতে ‘হাসিল ফ্রি’ বা খাজনা মওকুফ করা হয়েছে বলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তীব্র গুঞ্জন ও বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের তৈরি করা নানা ফটোকার্ডে প্রশাসন হাট ফ্রি করে দিয়েছে বলে দাবি করা হলেও, আজ শনিবার (২৩ মে) দুপুরে অনুষ্ঠিত উপজেলা মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় এই গুঞ্জন সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, সরকারি তালিকাভুক্ত কোনো বাজার ফ্রি বা হাসিলমুক্ত করে দেওয়ার আইনি সুযোগ নেই।
গত বুধবার (২০ মে) উপজেলা পরিষদে বিএনপি-জামায়াত নেতাকর্মীদের ধাওয়া-পাল্টাধাওয়ার জেরে অস্থায়ী পশুর হাটের প্রকাশ্য নিলাম স্থগিত করে প্রশাসন। এরপর থেকেই ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে একদল প্রচারকারী দাবি করতে থাকেন যে, এবার পূর্বধলায় অস্থায়ী পশুর হাট ‘হাসিল ফ্রি’ করা হয়েছে।
প্রচারকারীদের অনেকের বক্তব্য— যেহেতু আজ পর্যন্ত কোনো সরকারি আনুষ্ঠানিক ডাক (নিলাম) সম্পন্ন হয়নি, অথচ তালিকাভুক্ত বাজারগুলোতে ইতিমধ্যেই কোরবানির গরু-ছাগল উঠতে শুরু করেছে এবং বেচাকেনাও হচ্ছে; তাই সরকারি ডাক চূড়ান্ত না হওয়া পর্যন্ত ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাসিল বা খাজনা দেওয়া থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন তারা।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা-৫ (পূর্বধলা) আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা বলেন, “যেহেতু কোরবানির ঈদের দিন ঘনিয়ে আসছে এবং সময় কমে যাচ্ছে, তাই সাধারণ মানুষের স্বার্থ ও সুবিধার কথা বিবেচনা করে হাসিল বা খাজনা ছাড়াই বাজারগুলো সম্পূর্ণ উন্মুক্ত করে দেওয়ার জন্য আমি প্রশাসনের কাছে বিশেষ আবেদন জানিয়েছি।”
আজ শনিবার উপজেলা পরিষদ সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত মাসিক আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় পশুর হাটের ইজারা জট ও বিভ্রান্তি নিয়ে আলোচনা উঠলে ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাসনীম জাহান তাঁর প্রশাসনিক অবস্থান পরিষ্কার করেন। তিনি বলেন, “সরকারি বিধিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত পশুর হাট ফ্রিতে উন্মুক্ত করে দেওয়ার কোনো আইনি সুযোগ প্রশাসনের নেই। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে আগামীকাল রোববার (২৪ মে) পুনরায় এই বাজারগুলোর সরকারি ডাক (নিলাম) অনুষ্ঠিত হবে।”
ইউএনও আরও হুশিয়ারি দিয়ে বলেন, “সরকারি ডাক সম্পন্ন হওয়ার আগে যদি কোনো অসাধু চক্র বা ব্যক্তি জোরপূর্বক হাট বসিয়ে অবৈধভাবে হাসিল বা খাজনা আদায়ের চেষ্টা করে, তবে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এদিকে রাজনৈতিক কোন্দল ও প্রশাসনিক জটিলতায় দিন দিন সময় কমে যাওয়ায় পশুর হাটগুলোর সরকারি ডাকের গুরুত্ব ও আকর্ষণ কমে যাচ্ছে। স্থানীয় ইজারাদার ও ব্যবসায়ীদের আশঙ্কা, ঈদের আর মাত্র কয়েক দিন বাকি থাকায় অনেক বাজারের ইজারা নেওয়ার মতো পর্যাপ্ত ডাক দাতা (ক্রেতা) খুঁজে পাওয়া যাবে না। ফলে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে, অন্যদিকে খামারিরাও পশু কেনাবেচা নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন।