“শুনতেছি আজ থাইক্যা একশ বছর আগেও শ্যামগঞ্জ থাইক্যা দুর্গাপুর রেল আইবার কথা আছিল”— প্রবীণদের মুখে মুখে ফেরা এই আক্ষেপই এখন পরম প্রত্যাশায় রূপ নিচ্ছে। নেত্রকোণার সীমান্তবর্তী দুর্গাপুর উপজেলার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি ‘রেলপথ’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ নিতে আজ বুধবার (১৩ মে) সশরীরে হাজির হলেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল। প্রতিনিধি দলটি জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছালে তাঁদেরকে ফুলের শুভেচ্ছায় বরণ করেন পূর্বধলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান ও পূর্বধলা থানার অফিসার ইন চার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন।
আজ দুপুর ১টার দিকে নেত্রকোণার জারিয়া-ঝাঞ্জাইল রেলওয়ে স্টেশন পরিদর্শন করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল এবং রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব। তাঁদের সাথে ছিলেন রেলপথ সচিব ফাইমুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ রেলওয়ের মহাপরিচালক মো. আফজাল হোসেন, প্রশাসন ও রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
পরিদর্শনের সময় তাঁরা জারিয়া থেকে দুর্গাপুর পর্যন্ত ১২-১৪ কিলোমিটার রেলপথ সম্প্রসারণের কারিগরি ও ভৌগোলিক সম্ভাবনাগুলো সরেজমিনে খতিয়ে দেখেন।
পরে বিকেলে পৌর শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়াম হলরুমে স্থানীয় সুধীজনদের সাথে এক মতবিনিময় সভায় মিলিত হবেন অতিথিরা।
স্থানীয় ব্যবসায়ীদের মতে, সড়কপথে পণ্য পরিবহনে খরচ ও ঝুঁকি দুই-ই বেশি। রেল চালু হলে ঢাকা-ময়মনসিংহের সাথে সাশ্রয়ী ও নিরাপদ যোগাযোগ ব্যবসায়িক বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
শিক্ষার্থীরা জানান শত শত শিক্ষার্থী যারা ময়মনসিংহ বা ঢাকায় উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন দেখে, তাদের কাছে রেলপথ হবে এক আরামদায়ক ও নিরাপদ বাহন।
স্থানীয়দের মতে, বাসের অতিরিক্ত ভাড়া ও ঝক্কি সামলে যাতায়াত করা সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন। রেলপথ হবে নিম্ন ও মধ্যবিত্তের ভাগ্য বদলের চাবিকাঠি। সোমেশ্বরী নদীর তীরে অবস্থিত দুর্গাপুর দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। রেল যোগাযোগ শুরু হলে সারা দেশ থেকে পর্যটকরা সরাসরি যাতায়াত করতে পারবেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিতে সমৃদ্ধি আনবে।
পরিদর্শনকালে স্থানীয় সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন পূর্বধলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব আবু তাহের তালুকদার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আলহাজ্ব বাবুল আলম তালুকদার, হাবিবুর রহমান ফকির, ইস্তিয়াক আহম্মেদ বাবুসহ স্থানীয় রাজনৈতিক ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।