দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান নানা বিতর্ক, সমালোচনা ও ‘অপপ্রচারের’ কড়া জবাব দিয়েছেন আলোচিত ইসলামি বক্তা হাফেজ মাওলানা রফিকুল ইসলাম মাদানী। আজ বৃহস্পতিবার (৭ মে) সকালে নিজের ফেসবুক আইডিতে ‘কিছু বিভ্রান্তি ও অপপ্রচারের জবাব’ শিরোনামে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি নিজের অবস্থান পরিষ্কার করেন।
মাদানী তাঁর পোস্টে দাবি করেন, প্রথম স্ত্রী থাকা অবস্থায় অন্য কোনো মেয়ের সাথে প্রেম বা টিকটকের মাধ্যমে পরিচয়ের যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, “আল্লাহকে হাজির-নাজির রেখে বলছি, এই মেয়েকে বিয়ের দিন দেখার আগ পর্যন্ত আমি জীবনে কোনোদিন দেখিনি, এমনকি তাঁর সাথে একবারের জন্য কথাও হয়নি। টিকটকে কোনোদিন আমার আইডিও ছিল না।”
সবচেয়ে বেশি সমালোচনা হচ্ছিল প্রথম স্ত্রীর গর্ভাবস্থায় দ্বিতীয় বিয়ে করা নিয়ে। এর জবাবে মাদানী জানান, বিয়েটি সম্পন্ন হয়েছে ‘আইএমভি’ নামক একটি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে, যেখানে তিনি কয়েক মাস আগেই ফরম পূরণ করেছিলেন। উপযুক্ত পাত্রী খুঁজে পাওয়ার সময়টা কাকতালীয়ভাবে তাঁর স্ত্রীর গর্ভাবস্থার সময়ের সাথে মিলে যায়। তিনি আরও জানান, ফরম পূরণের বিষয়টি তিনি আগেই তাঁর প্রথম স্ত্রীকে জানিয়েছিলেন।
হাসপাতালে স্ত্রীর সেবা না করার অভিযোগ নাকচ করে তিনি বলেন, ময়মনসিংহের সন্ধানী ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অপারেশনের সময় তিনি টানা চার দিন রাত-দিন স্ত্রীর পাশে ছিলেন। এমনকি নার্সরা তাঁকে বিশ্রাম নেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সংসার জীবনে অবহেলার কোনো প্রমাণ দিতে পারলে তিনি যেকোনো শাস্তি মেনে নেবেন।
আইএমভি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রতিষ্ঠানটি স্বেচ্ছায় একাধিক বিয়েতে আগ্রহী নারী-পুরুষদের সহায়তা করে। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, অনেকে বড় বড় নেতাদের একাধিক ‘রক্ষিতা’ রাখা বা অনৈতিক সম্পর্ক নিয়ে কথা না বললেও তাঁর বৈধ দ্বিতীয় বিয়ে নিয়ে বেশি অপপ্রচার চালাচ্ছে।
উল্লেখ্য, গত বুধবার (৬ মে) দ্বিতীয় বিয়ের খবর জানিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর সেটি সরিয়ে নেওয়ায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছিল। আজকের এই দীর্ঘ বার্তার মাধ্যমে তিনি সেই রহস্য ও বিভ্রান্তির অবসান ঘটানোর চেষ্টা করলেন।