নেত্রকোণার পূর্বধলা উপজেলায় দীর্ঘ ৫০ দিন (১ মাস ২০ দিন) ধরে জাতীয় ও আঞ্চলিক পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় পাঠকরা। গত ১৬ মার্চ হকার দুর্ঘটনার কবলে পড়ার পর থেকে আজ ৫ মে পর্যন্ত এই অচলাবস্থা কাটেনি, ফলে তথ্যের চরম ঘাটতিতে ভুগছেন উপজেলার কয়েক হাজার সংবাদপিপাসু মানুষ।
জানা গেছে, উপজেলার প্রবীণ হকার আবুল কাসেম গত ১৬ মার্চ এক ভয়াবহ সিএনজি দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হন। তিনি বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকায় উপজেলার বিভিন্ন পাড়া-মহল্লায় পত্রিকা বিতরণ কার্যক্রম পুরোপুরি থমকে গেছে। আজ ৫ মে পর্যন্ত দীর্ঘ ১ মাস ২০ দিন পার হলেও বিকল্প কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় পাঠকদের মাঝে ক্ষোভ বাড়ছে।
বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আমার দেশ পত্রিকার পূর্বধলা প্রতিনিধি ও প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি সিনিয়র সাংবাদিক শফিকুল আলম শাহিন বলেন, “সংবাদপত্র হলো সমাজের দর্পণ এবং তথ্যের প্রধান উৎস। দীর্ঘ ৫০ দিন ধরে একটি ঐতিহ্যবাহী উপজেলায় পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। ডিজিটাল যুগে অনলাইনের গুরুত্ব থাকলেও ছাপা কাগজের নির্ভরযোগ্যতা এবং আবেদন আজও অনন্য। বিশেষ করে প্রবীণ পাঠক ও সচেতন মহলের জন্য এটি দিনের শুরু করার অবিচ্ছেদ্য অংশ। হকার কাসেম মিয়ার অসুস্থতা আমাদের ব্যথিত করে, কিন্তু তাঁর বিকল্প তৈরি না হওয়াটা পেশাদারিত্বের অভাব। আমি সংশ্লিষ্ট সংবাদপত্র এজেন্ট ও প্রশাসনের কাছে দাবি জানাই, দ্রুত একজন বিকল্প হকার নিয়োগ দিয়ে পাঠকদের তথ্যের অধিকার নিশ্চিত করা হোক।”
উপজেলা পরিষদ গেটের প্রবীণ পাঠক ও ব্যবসায়ী রঞ্জন সম্মানিত জানান, “পত্রিকা না পড়লে দিনটিই অসম্পূর্ণ মনে হয়। দীর্ঘদিন পত্রিকা না আসায় আমরা অনেকটা অন্ধকারেই আছি। বিকল্প ব্যবস্থা না হওয়াটা প্রশাসনের উদাসীনতা।”
স্থানীয় পাঠকদের দাবি, হকার অসুস্থ হওয়া সত্ত্বেও এত দীর্ঘ সময় পত্রিকা সরবরাহ বন্ধ থাকা কোনোভাবেই কাম্য নয়। দ্রুত পূর্বধলায় নিয়মিত পত্রিকা সরবরাহ পুনরায় চালুর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও পাঠকরা।