পূর্বধলায় হামলা, ভাঙচুর ও ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগ; প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন – পূর্বধলার দর্পন
বৃহস্পতিবার, ১১ জুন ২০২৬ | ২৮ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ, গ্রীষ্মকাল

পূর্বধলায় হামলা, ভাঙচুর ও ‘মিথ্যা মামলা’র অভিযোগ; প্রতিবাদে জামায়াতের সংবাদ সম্মেলন

প্রতিবেদক: দর্পন নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত: June 2, 2026

নেত্রকোনার পূর্বধলায় ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, হামলা ও পরবর্তীতে দায়ের করা মামলার প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, পূর্বধলা উপজেলা শাখা। সংবাদ সম্মেলনে দলটির নেতারা তাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, ভাঙচুর ও ‘মিথ্যা মামলা’ দায়েরের অভিযোগ তুলে ধরেন।

মঙ্গলবার (২ জুন) দুপুরে উপজেলার রৌশনারা রোডস্থ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু হুজাইফা।

লিখিত বক্তব্যে অভিযোগ করা হয়, গত ২০ মে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে অস্থায়ী কোরবানির পশুর হাটের ইজারা সংক্রান্ত ওপেন ডাক চলাকালে বিএনপির কিছু নেতাকর্মী ও সদ্য বহিষ্কৃত কয়েকজন ব্যক্তি পূর্বপরিকল্পিতভাবে জামায়াত নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে দলটির কয়েকজন নেতাকর্মী আহত হন বলে দাবি করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, আহতদের মধ্যে আগিয়া ইউনিয়ন জামায়াতের সভাপতি একেএম মাহফুজুর রহমান গুরুতর আহত হয়ে অস্ত্রোপচার করিয়েছেন। এছাড়া উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি হানিফ উদ্দিন, বৈরাটি ইউনিয়ন আমির আবুল হাসনাত, খলিশাউর ইউনিয়ন সেক্রেটারি শাফিউল্লাহসহ আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন বলেও দাবি করেন নেতারা।

লিখিত বক্তব্যে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর আহত নেতাকর্মীরা এলাকায় ফেরার পথে আগিয়া বাজার এলাকায় আবারও হামলার শিকার হন। একইসঙ্গে একেএম মাহফুজুর রহমানের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনাও ঘটে বলে দাবি করা হয়। এ ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতার সম্পৃক্ততার অভিযোগও উত্থাপন করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে আরও দাবি করা হয়, জামায়াতের এক নেতার মোটরসাইকেলে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটেছে এবং এর ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। পরবর্তীতে ওই ঘটনার দায়ও পরিকল্পিতভাবে জামায়াতের ওপর চাপানোর চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন নেতারা।

জামায়াত নেতারা বলেন, গত ২৬ মে দায়ের করা মামলায় তাদের ৩৩ জন নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে আরও ২০ থেকে ২৫ জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করা হয়েছে। তাদের দাবি, মামলায় এমন ব্যক্তিদেরও আসামি করা হয়েছে যারা ঘটনার সময় ঘটনাস্থলে ছিলেন না কিংবা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলন থেকে পাঁচ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে— দায়ের করা মামলা প্রত্যাহার, হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার, প্রশাসনের নিরপেক্ষ ভূমিকা নিশ্চিত করা, নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-হুমকি বন্ধ এবং রাজনৈতিক সহিংসতা প্রতিরোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ।

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন নেত্রকোনা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফা, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির অধ্যাপক মাওলানা ছাদেক আহমদ হারিছ, উপজেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আবু হুজাইফা, কর্মপরিষদ সদস্য বোরহান উদ্দিন, সদর ইউনিয়ন সেক্রেটারি আবু হানিফসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের কারণে হামলা, ভয়ভীতি ও মামলার সংস্কৃতি গণতান্ত্রিক পরিবেশকে ক্ষতিগ্রস্ত করছে এবং এ ধরনের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও নিরপেক্ষ বিচার প্রয়োজন।