নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার ধোবারুহী-বাদেপুটিকা সড়কের কাকড়িয়া খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতু ঝুঁকির মুখে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, অপরিকল্পিতভাবে খাল খননের কারণে সেতুর সংযোগস্থল ও আশপাশের মাটি সরে গিয়ে বড় ধরনের ফাটল ও ধস দেখা দিয়েছে। এতে যেকোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে এলাকায়।
এ ঘটনায় খননকাজের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারকে দায়ী করে প্রতিকার চেয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মো. শামসু রহমান মণ্ডল।
অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার বিশকাকুনী ইউনিয়নের ধোবারুহী এলাকায় খাল খনন কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেতুর নিচ ও আশপাশে ভেকু দিয়ে মাটি ও বালু অপসারণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও প্রকৌশলগত সতর্কতা ছাড়াই এ কাজ পরিচালনা করায় সেতুর ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়েছে এবং দুই পাশে মাটি ধসে গেছে।
সরেজমিনে এলাকাবাসীর ভাষ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সেতুর বিভিন্ন অংশে ফাটল দেখা দিয়েছে। প্রতিদিন এই সড়ক ব্যবহার করে ধোবারুহী, বাদেপুটিকাসহ আশপাশের কয়েকটি গ্রামের মানুষ, বিভিন্ন যানবাহন ও শিক্ষার্থীরা চলাচল করছেন, যা তাদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
পুটিকা গ্রামের বাসিন্দা শামছদ্দিন বলেন, কয়েকদিন ধরেই সেতুর পাশে ধস বাড়ছে এবং ফাটল স্পষ্ট হচ্ছে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে তিনি আশঙ্কা প্রকাশ করেন।
স্থানীয় অভিভাবক আবুল বাশার মণ্ডল বলেন, স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন এই সেতু ব্যবহার করে। ফলে সন্তানদের নিরাপত্তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।
অটোরিকশাচালক জাহিদ মিয়ার অভিযোগ, সেতুর ওপর দিয়ে যানবাহন চলাচলের সময় কাঁপুনি অনুভূত হয় এবং ফাটলের কারণে চালকদের মধ্যে ভয় কাজ করছে।
অভিযোগের বিষয়ে ঠিকাদার তোফায়েল আহমেদ বলেন, সেতুর নিচে জমে থাকা মাটি অপসারণের মাধ্যমে পানি চলাচল স্বাভাবিক করার কাজ করা হয়েছে এবং নিয়ম মেনেই খনন কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে। তাঁর দাবি, এতে সেতুর ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
এ বিষয়ে পূর্বধলা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তাসনীম জাহান বলেন, ঘটনাটি নিয়ে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। দ্রুত ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তদন্তের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। জননিরাপত্তার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।