নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় গাঁজাসহ আটক এক মাদক ব্যবসায়ীকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেওয়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। গত সোমবার (১ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার ধলামূলগাঁও ইউনিয়নের দত্তকুনিয়া গ্রামে এই নাটকীয় ও উত্তেজনাপূর্ণ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও জেলা গোয়েন্দা শাখা সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে নেত্রকোনা জেলা ডিবির একটি চৌকস দল সোমবার রাতে দত্তকুনিয়া গ্রামে মাদকবিরোধী এক বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে। অভিযানকালে ওই গ্রামের মৃত সুরুজ আলীর ছেলে চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী সম্রাটকে (৫৮) গাঁজাসহ হাতেনাতে আটক করে ডিবি পুলিশ।
ডিবি পুলিশের অভিযোগ, সম্রাটকে আটকের পরপরই তার বড় ভাই ও স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়াসহ বেশ কয়েকজন ব্যক্তি লাঠিসোঁটা নিয়ে সংঘবদ্ধ হয়ে ডিবি সদস্যদের অবরুদ্ধ ও ঘিরে ফেলেন। একপর্যায়ে তারা পুলিশের ওপর চড়াও হয়ে সরকারি কাজে বাধা সৃষ্টি করে এবং সম্রাটকে ডিবির হেফাজত থেকে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নিয়ে সটকে পড়ে।
পরিস্থিতি মারাত্মক উত্তেজনাপূর্ণ এবং বেগতিক দেখে ডিবি সদস্যরা তাৎক্ষণিকভাবে পূর্বধলা থানা পুলিশের জরুরি সহায়তা চান। খবর পেয়ে পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল-মামুন-এর নেতৃত্বে থানা পুলিশের অতিরিক্ত সদস্য এবং জেলা গোয়েন্দা পুলিশের আরও কয়েকটি টিম দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। বিশাল পুলিশ বাহিনীর উপস্থিতিতে রাতেই দত্তকুনিয়া গ্রামের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
তবে আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার মূল অভিযোগটি সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত সাবেক ইউপি সদস্য বাবুল মিয়া। তিনি পাল্টা দাবি করে বলেন, “এই ঘটনার সঙ্গে আমার কোনো প্রকার সম্পৃক্ততা নেই। আটক সম্রাট পুলিশের সঙ্গে ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে নিজেই কৌশলে পালিয়ে যায়। উল্টো ওই সময় পুলিশ এক নিরীহ প্রতিবন্ধী যুবককে মারধর করায় স্থানীয় সাধারণ লোকজন ক্ষুব্ধ হয়ে পুলিশের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েছিল।”
ঘটনার সত্যতা ও তীব্র ক্ষোভ নিশ্চিত করে নেত্রকোনা জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অফিসার ইনচার্জ (ওসি) দেবাংশু কুমার দে বলেন, “গাঁজাসহ আটক আসামি সম্রাটকে তার আত্মীয়-স্বজন ও উশৃঙ্খল সহযোগীরা সংঘবদ্ধভাবে ডিবি পুলিশের হেফাজত থেকে ছিনিয়ে নিয়ে গেছে, যা চরম আইন অমান্য ও দণ্ডনীয় অপরাধ। সরকারি কাজে বাধা ও আসামি ছিনতাইয়ের এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে সুনির্দিষ্টভাবে শনাক্ত করে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।”
বর্তমানে পলাতক মাদক ব্যবসায়ী সম্রাট ও পুলিশ হেফাজত থেকে তাকে ছিনিয়ে নেওয়ার ঘটনায় জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারে ধলামূলগাঁও এলাকাসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে ডিবি ও থানা পুলিশের চিরুনি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এই ঘটনায় পুরো উপজেলা জুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।