নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলায় তরুণ প্রজন্মের ক্ষমতায়ন, জেন্ডার সমতা প্রতিষ্ঠা, ডিজিটাল নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ‘সমতায় তারুণ্য: ইয়ুথ ফর ইক্যুয়ালিটি’ প্রকল্পের আওতায় দুই দিনব্যাপী এক বিশেষ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ৬ ও ৭ জুন (শনিবার ও রবিবার) পূর্বধলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে “ইনক্লুসিভ ইন্টারঅ্যাক্টিভ ক্যাপাসিটি বিল্ডিং ডিসকাশন” শীর্ষক এই কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
কর্মসূচিটি ঢাকাস্থ নেদারল্যান্ডস দূতাবাস-এর আর্থিক সহযোগিতায় এবং জাগো ফাউন্ডেশন ট্রাস্ট ও প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ-এর যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। মাঠপর্যায়ে এটি বাস্তবায়ন করেছে স্থানীয় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘একটিভিটি ফর রিফরমেশন অব বেসিক নীডস্-আরবান’।
দুই দিনব্যাপী এই নিবিড় আয়োজনে প্রতিদিন ৩০ জন করে মোট ৬০ জন নির্বাচিত সচেতন তরুণ-তরুণী অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে বিভিন্ন পাবলিক ও বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, স্থানীয় যুব প্রতিনিধি এবং তরুণ সামাজিক কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। উন্মুক্ত ও অংশগ্রহণমূলক এই সেশনগুলোতে তারা জেন্ডার সমতা, নিরাপদ ইন্টারনেট ব্যবহার, ডিজিটাল নাগরিকত্ব এবং সামাজিক ইতিবাচক পরিবর্তনে তরুণদের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে নিজেদের বাস্তব অভিজ্ঞতা, মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন।
কর্মশালার প্রথম দিনের সেশনগুলো সফলভাবে পরিচালনা করেন আরবানের প্রোগ্রাম অফিসার আজাদ ইমরান শরীফ এবং ইয়ুথ ভলান্টিয়ার সামিয়া জাহান তিশা। দ্বিতীয় দিনের সেশনে আলোচনা উপস্থাপন করেন আরবানের প্রোগ্রাম কোঅর্ডিনেটর আবুল আরশাদ, ইয়ুথ ভলান্টিয়ার সামিয়া জাহান তিশা ও হৃদয় হোসাইন।
দুই দিনের বিস্তারিত আলোচনায়— জেন্ডার স্টেরিওটাইপ (লিঙ্গভিত্তিক সনাতন ধারণা), সাইবার বুলিং ও ডিজিটাল নিরাপত্তা, মিডিয়া লিটারেসি (তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা), লবিং ও অ্যাডভোকেসিসহ সমসাময়িক নানা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে বিস্তৃত মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। বক্তারা সমাজে প্রচলিত লিঙ্গভিত্তিক বৈষম্য দূর করে সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠা, অনলাইন নিরাপত্তা জোরদার এবং সামাজিক পরিবর্তনে যুবসমাজকে অগ্রণী ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী তরুণ-তরুণীরা দলভিত্তিক আলোচনা (Group Discussion) ও উপস্থাপনার মাধ্যমে সমাজের বৈষম্য দূরীকরণে বেশ কিছু যুগোপযোগী সুপারিশ তুলে ধরেন। তাদের প্রধান সুপারিশগুলোর মধ্যে রয়েছে:
১. পরিবার ও সমাজে নারী ও পুরুষের সমান মতামতের অধিকার নিশ্চিত করা।
২. স্থানীয় ও জাতীয় পর্যায়ের সকল ক্ষেত্রে নারীর নেতৃত্ব ও সক্রিয় অংশগ্রহণ বৃদ্ধি।
৩. ডিজিটাল নিরাপত্তা ও সাইবার বুলিং প্রতিরোধে তৃণমূল পর্যায়ে নিয়মিত প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা।
৪. স্থানীয় জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট সমস্যা সমাধানে লবিং কার্যক্রম জোরদার করা।
৫. অ্যাডভোকেসির মাধ্যমে সামাজিক কুসংস্কারের বিরুদ্ধে সর্বস্তরে জনসচেতনতা বৃদ্ধি।
৬. নারীর প্রতি সকল ধরনের সহিংসতা ও ইভটিজিং প্রতিরোধে সম্মিলিত সামাজিক উদ্যোগ গ্রহণ।
৭. পারস্পরিক সম্মান ও বৈচিত্র্যকে মূল্যায়নের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়ে তোলা।
আয়োজক সংস্থা আরবানের কর্মকর্তারা জানান, এই ধরনের বাস্তবমুখী উদ্যোগ তরুণদের সুপ্ত নেতৃত্ব বিকাশ, সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধি এবং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ বিনির্মাণে চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করবে। যুবসমাজকে সম্পৃক্ত করে আগামী দিনগুলোতেও পূর্বধলার বিভিন্ন প্রান্তে এ ধরনের উন্নয়নমূলক কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন।