সব জল্পনা-কল্পনা, রাজনৈতিক উত্তেজনা এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের ‘হাসিল ফ্রি’র গুঞ্জন উড়িয়ে অবশেষে কাটলো নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার কোরবানি পশুর হাটের ইজারা জট। উপজেলার মোট ৫১টি প্রস্তাবিত অস্থায়ী পশুর হাটের মধ্যে চূড়ান্তভাবে ২৮টি হাটের প্রকাশ্য নিলাম (ডাক) সম্পন্ন হয়েছে। আজ রবিবার (২৪ মে) বিকেলে পূর্বধলা উপজেলার ভারপ্রাপ্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাসনীম জাহান স্বাক্ষরিত এক জরুরি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে এই অনুমোদন ও পশুর হাট বসানোর অনুমতি প্রদান করা হয়।
প্রশাসনের চূড়ান্ত তালিকা অনুযায়ী, সর্বোচ্চ মূল্যে ইজারা হওয়া প্রধান প্রধান বাজারগুলোর মধ্যে রয়েছে—
- নারায়ণডহর বাজার: সর্বোচ্চ ১,৯৬,০০০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. মানিক মিয়া।
- মৌদাম ঈদগাহ মাঠ ও স্কুল সংলগ্ন: ৫০,০০০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. আব্দুর রেজ্জাক।
- আগিয়া বাজার: ৫১,৫০০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. বাচ্চু মিয়া।
- ফাতিলপুর বাজার: ৬১,০০০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. ফেরদৌস মিয়া।
- জারিয়া বাজার: ৩০,১১০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন চান মিয়া।
- খলিশাপুর খানপাড়া জামে মসজিদ বাজার: ৩০,৯১০/- টাকায় ইজারা পেয়েছেন মো. মজিবুর রহমান।
পবিত্র ঈদুল আজহা উপলক্ষে অস্থায়ী পশুর হাট পরিচালনার জন্য ইজারাদারদের ওপর ৮টি বাধ্যতামূলক শর্ত আরোপ করেছে উপজেলা প্রশাসন। শর্তগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো—
১. কোনো অবস্থাতেই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মাঠে বা খেলার মাঠে পশুর হাট বসানো যাবে না।
২. স্থায়ী বা অস্থায়ী কোনো হাটের ক্ষতি সাধন করা চলবেনা।
৩. মহাসড়ক, প্রধান সড়ক ও রেললাইনের সন্নিকটে পশুর হাট বসানো সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
৪. হাটের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে হবে এবং প্রতিদিন হাট শেষে ময়লা-আবর্জনা ইজারাদারকে নিজস্ব দায়িত্বে অপসারণ করতে হবে।
৫. অস্থায়ী পশুর হাটে নির্ধারিত টোল বা হাসিল রসিদ মূলে আদায় করতে হবে (অতিরিক্ত টোল আদায় করা যাবে না)।
৬. কোনো হাটে বা বাজারে ক্ষতিকর হরমোন/স্টেরয়েড ব্যবহার করা পশু বিক্রয় রোধ করতে হবে।