কেন্দ্রে বিএনপি সরকার গঠনের পর জাতীয় সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন নিয়ে শুরু হয়েছে নতুন সমীকরণ। ধারণা করা হচ্ছে, চলতি রমজান মাসের মধ্যেই এই আসনগুলোর নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে। সংরক্ষিত আসনের এই দৌড়ে নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলা থেকে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে সাধারণ মানুষ ও রাজনৈতিক মহলে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রবীণ শিক্ষাবিদ ও প্রাজ্ঞ রাজনীতিক অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী।
রাবেয়া আলী ব্যক্তিগত ও পারিবারিকভাবেই রাজনীতির এক সমৃদ্ধ ঐতিহ্যের উত্তরাধিকারী। তাঁর পিতা মরহুম অ্যাডভোকেট মৌলভী আকবর আলী ছিলেন পূর্ব পাকিস্তান প্রাদেশিক পরিষদের সাবেক সদস্য। তাঁর স্বামী ডা. মোহাম্মদ আলী নেত্রকোণা-৫ (পূর্বধলা) আসন থেকে একাধিকবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে এই জনপদের মানুষের সেবা করেছেন। এই দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলায় পারিবারিক পরিচিতি ও ব্যক্তিগত স্বচ্ছ ভাবমূর্তি তাঁকে স্থানীয় নাগরিক মহলে বিপুল গ্রহণযোগ্যতা এনে দিয়েছে।
রাজনীতিতে রাবেয়া আলী এক দীর্ঘ অভিজ্ঞতার নাম। ১৯৬৯ সালের উত্তাল গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তিনি সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেছেন। বর্তমানে তিনি বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি তেজগাঁও থানা বিএনপির সদস্য এবং তেজগাঁও শাখা মহিলা দলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দলের দুঃসময়ে সাংগঠনিক ভিত মজবুত করতে অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চশিক্ষা অর্জনকারী এই মহীয়সী নারী কেবল রাজনীতিতেই নয়, পূর্বধলার নারী শিক্ষা বিস্তারে রেখেছেন অসামান্য অবদান। তিনি ‘রাবেয়া আলী মহিলা ডিগ্রি কলেজ’ এর প্রতিষ্ঠাকালীন অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির গভর্নিং বডির সভাপতির দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁর হাতে গড়া এই প্রতিষ্ঠানটি এলাকার নারী সমাজকে শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করতে আলোকবর্তিকা হিসেবে কাজ করছে।
মনোনয়ন প্রসঙ্গে অধ্যক্ষ রাবেয়া আলী বলেন, “আমি দলের সুসময় ও দুঃসময়—উভয় কালেই রাজপথে পাশে ছিলাম। রাজনীতির বাইরেও সবসময় ধর্মীয়, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে মানুষের পাশে থাকতে চেষ্টা করেছি। দল যদি আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন প্রদান করে, তবে শহীদ জিয়ার আদর্শ আর জনগণের প্রত্যাশা পূরণে আমি সর্বোচ্চ সচেষ্ট থাকব।”
রাজনৈতিক সচেতন মহল মনে করছেন, তাঁর মতো একজন ত্যাগী ও শিক্ষিত নারীকে সংরক্ষিত আসনে সুযোগ দিলে পূর্বধলা তথা নেত্রকোণার নারী নেতৃত্ব ও উন্নয়ন আরও বেগবান হবে।