কথায় আছে, “ইমান থাকলে পাহাড়ও সরানো যায়।” সেই কথারই বাস্তব প্রমাণ দিলেন নেত্রকোনার পূর্বধলা উপজেলার আলমপুর গ্রামের উত্তরপাড়া জামে মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় একদল যুবক। মাত্র ১৮ হাজার টাকা সম্বল করে শুরু করা এক মসজিদের পুনর্নির্মাণ কাজ আজ এক বিশাল কর্মকাণ্ডে রূপ নিয়েছে, যেখানে ঠিকাদারের চেয়েও বেশি কাজ করছেন সাধারণ গ্রামবাসী।
বছরখানেক আগের কথা। আলমপুর উত্তরপাড়া জামে মসজিদটি ছিল জরাজীর্ণ ও আকারে অনেক ছোট। সামান্য বৃষ্টিতেই টিনের ছাল চুয়ে পানি পড়ত ভেতরে। সেই সময় মসজিদের ফান্ডে জমা ছিল মাত্র ১৮ হাজার টাকা। সেই সামান্য পুঁজি নিয়েই মসজিদটি বড় পরিসরে পুনর্নির্মাণের স্বপ্ন দেখেন এলাকার একদল উদ্যমী যুবক। অনেকে শুরুতে সংশয় প্রকাশ করলেও যুবকদের সাহসিকতায় এগিয়ে আসেন শত শত গ্রামবাসী।
আর্থিক স্বল্পতা থাকলেও গ্রামবাসীদের ভালোবাসার কমতি ছিল না। যখন মিস্ত্রি ডাকার টাকা কম পড়েছে, তখন গ্রামের মুরুব্বি থেকে শুরু করে ছোট ছোট ছেলে-মেয়েরাও নিজেদের পরিশ্রমে এগিয়ে এসেছে। মাটি কাটা থেকে শুরু করে ভারি ইট ও বালু বহনের কাজগুলো গ্রামবাসী করেছেন সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। নিজেদের শ্রম দিয়ে হাজার হাজার টাকা সাশ্রয় করে তারা প্রমাণ করেছেন, ঐক্যবদ্ধ থাকলে কোনো বাধাই বড় নয়।
সরেজমিনে গত শুক্রবার জুম্মার নামাজের পর মুসল্লিদের সাথে কথা বলে এক আবেগঘন পরিবেশ দেখা যায়। মসজিদের কাজ এখনো পুরোপুরি শেষ হয়নি; নেই পর্যাপ্ত পলেস্তারা কিংবা জানালার ফ্রেম। তবুও এই অসম্পূর্ণ মসজিদেই নামাজ আদায় করতে পেরে মুসল্লিরা দারুণ আনন্দিত। নামাজ শেষে মুসুল্লিরা জানান, গ্রামবাসী নিজেদের শ্রম আর আর্থিক সাহায্যে যতটুকু করেছেন, তা এক অনন্য উদাহরণ।
যুবকদের হাত ধরে শুরু হওয়া এই স্বপ্নের প্রকল্প আজ দৃশ্যমান হলেও অর্থের অভাবে মসজিদের ফিনিশিং কাজগুলো থমকে আছে। আলমপুর গ্রামবাসীর প্রত্যাশা, প্রচারের মাধ্যমে কোনো দানশীল ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান যদি এই অসম্পূর্ণ ঘরের দিকে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেন, তবে হয়তো খুব দ্রুতই পূর্ণতা পাবে তাদের ত্যাগের এই ইবাদতখানা।